দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের নাম পরিবর্তন করে ‘রিপাবলিক অব নাওয়েরো’ করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডেভিড আদেয়াং জানিয়েছেন, নতুন নামটি দেশটির স্থানীয় ভাষায় প্রচলিত বানান ও উচ্চারণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁর মতে, এটি কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং জাতীয় পরিচয়, ঐতিহ্য ও পূর্বপুরুষের উত্তরাধিকার সংরক্ষণের উদ্যোগ।
নতুন নামটি ইংরেজিতে ‘নাউরু’ নামে পরিচিত হলেও স্থানীয় উচ্চারণে ‘Naoero’—যার উচ্চারণ অনেকটা ‘নাওয়েরো’। দেশটির আন্তর্জাতিক কোডও NRU থেকে NRO করা হবে। নাগরিকদের ‘Nauruan’ না বলে ‘dei-Naoero’ নামে পরিচিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটেও দেশটির নতুন নাম যুক্ত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটেও নাওয়েরো নামটি ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, বিদেশিদের সুবিধার জন্য স্থানীয় নামের পরিবর্তে ‘Nauru’ নামটি ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এখন ঐতিহ্যবাহী নামটি পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংশোধনীতে দেশটির আইনপ্রণেতারা প্রয়োজনীয় দুই দফা ভোটে অনুমোদন দিয়েছেন। শুরুতে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে গণভোটের কথা বলা হলেও পরে সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, এ জন্য গণভোটের প্রয়োজন নেই। সরকারের ভাষ্য, ‘নাওয়েরো’ নামটি কখনো হারিয়ে যায়নি; এটি মানুষের পরিচয়, জাতীয় প্রতীক এবং দৈনন্দিন কথাবার্তায় এখনো ব্যবহৃত হয়।
প্রায় ১২ হাজার মানুষের দেশ নাওয়েরো জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম স্বাধীন রাষ্ট্র—ভ্যাটিকান সিটি ও টুভালুর পরেই এর অবস্থান। ক্ষুদ্র এই প্রবাল-চুনাপাথরের দ্বীপটি একসময় জার্মান উপনিবেশ ছিল। পরে অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসনের অধীনে থাকার পর ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা লাভ করে।
১৯৭০-এর দশকে ফসফেট খনির কারণে দেশটিতে বিপুল সম্পদ আসে। কিন্তু খনি-শিল্পের পতনের পর ১৯৯০-এর দশকে অর্থনীতি প্রায় ধসে পড়ে। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম নাওয়েরো। সমুদ্রের আগ্রাসন মোকাবিলায় দেশটির সরকার অবকাঠামো ও জনবসতি সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে।
প্রেসিডেন্ট আদেয়াংয়ের মতে, নাম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নাওয়েরোতে ‘নতুন জাতীয় গর্বের সূচনা’ হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত ঔপনিবেশিক অতীত থেকে নিজেদের পরিচয় পুনরুদ্ধারের সাম্প্রতিক বৈশ্বিক প্রবণতারও অংশ। এর আগে সোয়াজিল্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে এসওয়াতিনি এবং তুরস্কের আন্তর্জাতিক নাম তুর্কিয়ে করা হয়েছিল।
নাম পরিবর্তনের ফলে দেশটির জাতীয় বিমান ও জাহাজগুলোর নামেও পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অন্যান্য দেশের কাছে নতুন নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগও চালাবে নাওয়েরো সরকার।