হোম > বিশ্ব > এশিয়া

পার্লামেন্ট ভেঙে দিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী, পরবর্তী নির্বাচন ৮ ফেব্রুয়ারি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এপির সৌজন্যে

পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। আর পরবর্তী নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। আজ শুক্রবার জাপানের পার্লামেন্টের স্পিকার একটি চিঠি পাঠ করে নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এ সময় আইনপ্রণেতারা ঐতিহ্যবাহী স্লোগান ‘বানজাই’ ধ্বনি দেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ৪৬৫ সদস্যের নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার ফলে এখন ১২ দিনের নির্বাচনী প্রচারের পথ খুলে গেল। এই প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে আগামী মঙ্গলবার।

জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি গত সোমবারই আগাম নির্বাচন ডাকার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। গত বছরের অক্টোবরে জাপানের প্রথম নারী নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন তাকাইচি। তিনি মাত্র ৩ মাস ধরে ক্ষমতায়। তবে এই স্বল্প সময়েই তার জনপ্রিয়তা প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে।

নিজের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তিনি ক্ষমতাসীন দলকে আবার শক্ত অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে চান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসমর্থন বড় ধরনেরভাবে কমে গিয়েছিল দলটির। তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাপান ইনোভেশন পার্টির (জেআইপি) জোট নিম্নকক্ষে খুব অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে।

ইউনিভার্সিটি অব সুকুবার রাজনীতি বিষয়ক অধ্যাপক হিদেহিরো ইয়ামামোতো বলেন, ‘তাকাইচি সরকারের প্রতি উচ্চ জনসমর্থন আদৌ এলডিপির প্রতি ভোটে রূপ নেবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।’ বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘মানুষের প্রধান উদ্বেগ হচ্ছে মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারে ভোক্তাদের জন্য বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং চীনের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ইস্যু হবে প্রধান আলোচ্য বিষয়। তাকাইচি গত নভেম্বর মাসে মন্তব্য করেছিলেন, চীন যদি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে জাপান তাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। এরপর থেকেই টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ চলছে।

তাইওয়ান একটি স্বশাসিত দ্বীপ, যাকে চীন নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। তাকাইচির এই মন্তব্যের জেরে ক্ষুব্ধ চীন জাপানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। জাপানের কিয়োদো নিউজ জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি কমাতে খাদ্যপণ্যের ওপর আরোপিত ভোগকর তুলে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে সরকারপক্ষ ও বিরোধী দল—উভয় শিবিরই।

বাড়তে থাকা পণ্যমূল্যের কারণে জনঅসন্তোষই মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার পতনের বড় কারণ ছিল। তাকাইচি গত অক্টোবরে তার স্থলাভিষিক্ত হন। শুক্রবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ডিসেম্বর মাসে জাপানের মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসে সরকারি ভর্তুকি এর প্রধান কারণ। তাজা খাদ্যপণ্য বাদ দিয়ে ভোক্তা মূল্যসূচক অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল বছরে ২.৪ শতাংশ। নভেম্বর মাসে এই হার ছিল ৩ শতাংশ। এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি।

জাপানে চাল এখন মূল্যবৃদ্ধির প্রতীক হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এক বছরের ব্যবধানে এই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গিয়েছিল। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছুটা কমেছে। সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় চলতি ডিসেম্বর মাসে চালের দাম বেড়েছে ৩৪ শতাংশেরও বেশি। তাকাইচির এলডিপি কয়েক দশক ধরে প্রায় বিরতিহীনভাবে জাপান শাসন করে আসছে, যদিও এ সময়ে দলটির নেতৃত্বে বারবার পরিবর্তন হয়েছে।

প্রধান বিরোধী দল কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (সিডিপি) আরেকটি দল কোমেইতোর সঙ্গে জোট বেঁধেছে। তাদের নতুন জোটের নাম সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স। লক্ষ্য হলো তাকাইচির কাছ থেকে দোদুল্যমান ভোটারদের টেনে আনা। বিশ্লেষকদের মতে, এই জোট কতটা সফল হয় তার ওপর নির্বাচনের লড়াই নির্ভর করবে। তবে বিরোধীদের জয়ের সম্ভাবনা এখনো খুবই কম।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর আসনে লড়বেন নেপালে জেন-জি বিক্ষোভের মুখ বালেন শাহ

কাবুলে চীনা রেস্তোরাঁয় বোমা হামলার দায় স্বীকার আইএসের

আফগানিস্তানের কাবুলে চীনা রেস্তোরাঁয় হামলা, নিহত ৭

জাপানের আইনসভা ভেঙে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি

শিগগির চালু হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, সক্ষমতা ৮.২ গিগাওয়াট

ইয়ং ফর্টিজ: মিলেনিয়ালদের বিদ্রূপ করতে জেন-জির নতুন ভাষা

ইন্দোনেশিয়ায় ১১ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার

ইন্দোনেশিয়ায় ১১ আরোহীসহ ফ্লাইট নিখোঁজ

সামরিক আইন জারি করায় ৫ বছরের কারাদণ্ড পেলেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট

তালেবানের শীর্ষ নেতৃত্বে ক্ষমতার সংঘাত—বেরিয়ে এল বিবিসির অনুসন্ধানে