ফিলিপাইনের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র পালাওয়ান প্রদেশের করোন অভিমুখে যাওয়ার পথে ‘এমভি জুন অ্যাস্টার’ নামের একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৮৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ম্যানিলা থেকে ছেড়ে আসা ফেরিটিতে ১১৭ জন যাত্রী ও ১৭ জন ক্রুসহ মোট ১৩৪ জন আরোহী ছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
ফিলিপাইনের কোস্টগার্ড ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে করোন দ্বীপের মারসিলা গ্রামের অদূরে সাগরে অবস্থানকালে হঠাৎ জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় জেলেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এ পর্যন্ত ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধারকৃতদের স্থানীয় বারাঙ্গায় তুরদার একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ও মারাত্মক আহত সাতজনকে পার্শ্ববর্তী বড় দ্বীপ কুলিয়ানের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কোস্টগার্ডের মুখপাত্র কমোডর নোয়েমি কায়াবইয়াব জানান, বেঁচে যাওয়া এক যাত্রীর প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী কার্গো হোল্ড থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো জাহাজে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা চরম মানসিক আঘাত ও আতঙ্কের মধ্যে থাকায় তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাগরে তীব্র ঢেউ, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং স্রোতের কারণে দুর্ঘটনাকবলিত ফেরিটি মূল উপকূল থেকে দূরে ভেসে যাওয়ায় নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফিলিপাইন কোস্টগার্ড নিখোঁজদের উদ্ধারে এবং তেল ছড়িয়ে পড়া রোধে সমন্বিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে নিখোঁজ যাত্রীদের পরিবারে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিখোঁজ এক যাত্রীর স্ত্রী অ্যানেলিন জানান, ম্যানিলায় সন্তানদের দেখে ফেরিতে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁর স্বামী মার্লন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দুই বছরের সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালের বাইরে ব্যাকুলভাবে অপেক্ষা করছেন।
আতিয়েঞ্জা শিপিং লাইন্সের মালিকানাধীন এই নৌযানটি যে অঞ্চলে দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে, সেই করোন দ্বীপটি উঁচু পাহাড়ি ঢাল ও স্বচ্ছ পানির জন্য বিশ্বজুড়ে স্কুবা ডুবুরিদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ফিলিপাইনে ৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ থাকায় চলাচলের জন্য ফেরি অন্যতম প্রধান মাধ্যম, তবে দুর্বল তদারকি ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রায়ই সেখানে বড় ধরনের নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।