হোম > বিশ্ব > এশিয়া

আফগানিস্তানে ভারতীয় নারী ব্যাকপেকারকে ছেড়ে দিল তালেবান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

অরুণিমা আইপির আফ্রিকা ভ্রমণের ছবি

আফগানিস্তানে একা ভ্রমণ করতে গিয়ে তালেবানের হেফাজতে আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছেন ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর অরুণিমা আইপি। নারী হয়ে আফগানিস্তানে একা ভ্রমণ করায় তাঁকে আটক করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর আটক হওয়ার পরদিন মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, ‘আমি এখন নিরাপদে আছি।’

বুধবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট জানায়, ভারতের কেরালার পালাক্কাড় শহরের বাসিন্দা অরুণিমা প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আফগানিস্তানে একক ভ্রমণে যান। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ১২ লাখের বেশি এবং ইউটিউবে সাবস্ক্রাইবার ৭ লাখ ৩৩ হাজারেরও বেশি। আফগানিস্তানের বাজার, প্রত্যন্ত গ্রাম ও বিভিন্ন প্রদেশ ঘুরে তিনি নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করছিলেন।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর অরুণিমা ইনস্টাগ্রামে একটি এসওএস বার্তা দিয়ে লেখেন—‘দয়া করে আমাকে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিন।’ প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সকালে তিনি জানান, তিনি নিরাপদে আছেন।

আফগানিস্তানে নারীদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের কথা তুলে ধরে অরুণিমা বলেন, দেশটিতে নারীদের সাধারণত একা ভ্রমণের অনুমতি নেই। একটি ভিডিওতে তিনি জানান, বিভিন্ন চেকপোস্টে সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাঁকে থামিয়ে নথিপত্র দেখতে চাইতেন।

অরুণিমার দাবি, তাঁকে আটক করা ব্যক্তিরা তাঁর ভ্রমণ নথি পড়তে পারছিলেন না। তাঁরা একা দেশ ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেন এবং বিভিন্ন প্রদেশে যেতে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন বলে জানান।

অরুণিমা জানান, কয়েক ঘণ্টা তিনি প্রচণ্ড আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছিল, আমি মারা যেতে পারি। আমি পুরোপুরি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম।’ পরে একটি ট্রাকে লিফট নিয়ে তিনি বামিয়ানে পৌঁছান। সন্ধ্যার পর সেখানে নামতেই স্থানীয় লোকজন তাঁকে ঘিরে ধরেন। কারণ, রাতে কোনো নারীকে একা চলাফেরা করতে দেখা আফগানিস্তানে খুবই অস্বাভাবিক একটি ঘটনা।

আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, আফগান নারীদের সাধারণত মুখ ঢেকে রাখতে হয় এবং বিদেশি নারী হওয়ায় তিনি মুখ খোলা রাখতে পারলেও মাথা ও শরীর ঢেকে রাখতে হয়েছে।

অরুণিমার দাবি, তালেবান কর্মকর্তারা তাঁকে জানান, দেশটির নিয়ম অনুযায়ী তিনি বিধি লঙ্ঘন করেছেন এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—নারীদের যদি একা চলাফেরার অনুমতি না থাকে, তাহলে তাঁর একা ভ্রমণের ভিসা অনুমোদন করা হলো কেন?

অরুণিমা জানান, ইরানের ভিসার অপেক্ষায় থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান ছেড়ে তিনি উজবেকিস্তানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আফগানিস্তান থেকে উজবেকিস্তানের দূরত্ব প্রায় ৫০০ কিলোমিটার। তবে পথে তালেবানের আরও তল্লাশি ও নজরদারি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

অরুণিমার অভিযোগের বিষয়ে তালেবান কর্তৃপক্ষ বা ভারতীয় দূতাবাস এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে অধিকাংশ দেশই নাগরিকদের আফগানিস্তান ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়ে থাকে। তবু অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর দেশটির কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত বাস্তবতা তুলে ধরতে সেখানে ভ্রমণ করছেন।