বিশ্বের অন্যতম আলোচিত রহস্য বিমান মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের নিখোঁজ ফ্লাইট ‘এমএইচ-৩৭০’ এর অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। এই লক্ষ্যে গভীর সমুদ্র অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান ওশান ইনফিনিটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
২০১৪ সালের ৮ মার্চ কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাওয়ার পথে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজটি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। এতে ২২৭ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রু ছিলেন। ঘটনাটি আধুনিক বিমান চলাচলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোক জানান, যাত্রীদের স্বজনদের জন্য একটি চূড়ান্ত উত্তর খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি থেকেই অনুসন্ধানের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ওশান ইনফিনিটি ভারত মহাসাগরের দক্ষিণাঞ্চলে অবশিষ্ট ৭ হাজার ৪২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় অনুসন্ধান চালাবে।
প্রতিষ্ঠানটি এর আগে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিমানটির সন্ধানে কাজ করেছিল। গত বছর মালয়েশিয়ার সঙ্গে নতুন চুক্তি করে তারা ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় অনুসন্ধান পুনরায় শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী, বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেলে প্রতিষ্ঠানটি ৭ কোটি মার্কিন ডলার পাবে।
তদন্তে জানা যায়—উড্ডয়নের প্রায় ৪০ মিনিট পর বিমানটির সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ হয়েছিল। এরপর এর ট্রান্সপন্ডার বন্ধ হয়ে যায়, ফলে বিমানটিকে সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সামরিক রাডারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি নির্ধারিত পথ ছেড়ে মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চল ও পেনাং দ্বীপের ওপর দিয়ে আন্দামান সাগরের দিকে যায় এবং পরে দক্ষিণমুখী হয়ে রাডারের আড়ালে চলে যায়।
যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকেত বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হয়, বিমানটি আরও প্রায় ছয় ঘণ্টা উড়েছিল এবং জ্বালানি শেষ হয়ে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়। তবে তদন্তকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
এখন পর্যন্ত আফ্রিকার উপকূল ও ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন দ্বীপ থেকে ৩০ টির বেশি সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হলেও মাত্র তিনটি ডানার অংশ নিশ্চিতভাবে এমএইচ-৩৭০-এর বলে শনাক্ত হয়েছে। তবু এক যুগ পরও বিমানটির প্রকৃত অবস্থান এবং নিখোঁজ হওয়ার কারণ রহস্যই রয়ে গেছে।