রেকর্ড ২৮৬ দিন সমুদ্রে কাটানোর পর থাইল্যান্ডের পাতায়া বন্দরে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মদ্যপ অবস্থায় মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন মার্কিন নৌবাহিনীর দুই নাবিক। পরে তাঁদের জাহাজে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তবে থাই পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা কোনো থাই আইন ভঙ্গ করেননি।
গত বুধবার থাইল্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন ও রাতের বিনোদনের শহর পাতায়ায় নোঙর করে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। প্রায় ৫ হাজার নাবিক নিয়ে ২৮৬ দিন সমুদ্রে থাকার পর এটিই ছিল জাহাজটির প্রথম কোনো বন্দরে যাত্রাবিরতি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ডেইলি মেইল জানিয়েছে, জাহাজটি নোঙর করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাতায়ায় কুখ্যাত রেড-লাইট এলাকা ওয়াকিং স্ট্রিটের কাছে ‘ছোটখাটো হাতাহাতির’ ঘটনা ঘটে। এতে জড়িত দুই নাবিককে জাহাজে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
এই বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রধান কর্নেল আনেক শ্রীথংইউ বলেন, ‘নাবিকেরা মাতাল ছিলেন এবং তাঁরা মারামারি করছিলেন ও উচ্চ স্বরে হইচই করছিলেন।’ তিনি জানান, নাবিকেরা থাইল্যান্ডের কোনো আইন ভঙ্গ করেননি। তবে পাঁচ দিন বন্দরে অবস্থানের বাকি সময় তাঁদের ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনেই থাকতে হবে।
মার্কিন ও থাই কর্মকর্তারা নাবিকদের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিলেন। পাতায়ায় অন্তত ৬টি জনপ্রিয় এলাকায় তাদের যেতে নিষেধ করা হয়েছে। পাশাপাশি থাই পুলিশ মনে করিয়ে দিয়েছে, দেশটিতে পতিতাবৃত্তি বেআইনি। তবে পাতায়ায় আনুমানিক ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার যৌনকর্মী কাজ করেন বলে ধারণা করা হয়।
এ ছাড়া নাবিকদের জন্য গাঁজার দোকানেও যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্যারাগ্লাইডিং ও জেট-স্কির মতো কিছু বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড থেকেও তাঁদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
গত নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে ছয় মাসের মিশনে রওনা হয়েছিল যুদ্ধজাহাজ লিংকন। পরে ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হলে জাহাজটিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠানো হয়। এরপর আর কোনো বন্দরে থামেনি এটি।
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানকালে জাহাজে খাবারের সংকট, নষ্ট টয়লেট ও নাবিকদের মানসিক চাপ নিয়ে কংগ্রেস সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা নাকচ করেন। এক নাবিকের স্ত্রী জাহাজটিকে ‘ভাসমান ধাতব কারাগার’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) লিংকন ও এর নাবিকেরা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পাতায়া ছাড়বেন।