জাতীয় নির্বাচনের পরপরই নেপালের রাজনীতিতে বড় ধরনের ঘটনা ঘটল। গত বছরের জেন-জি বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমনপীড়ন চালানোর অভিযোগে দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার ভোরে কাঠমান্ডুর নিজ নিজ বাসভবন থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং তাঁর মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার ঠিক এক দিন পরেই এই নাটকীয় গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল।
কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণ বিক্ষোভকারীদের ওপর যে নৃশংস দমনপীড়ন চালানো হয়েছিল, তাতে সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন আইন অনুযায়ী পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর নেপাল সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করে তরুণ প্রজন্ম (জেন-জি)। সেই আন্দোলন দমনে পুলিশি অ্যাকশনে অন্তত ৭৭ জন প্রাণ হারান। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর তীব্র জনরোষের মুখে ৭৪ বছর বয়সী কে পি শর্মা অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং তাঁর সরকারের পতন ঘটে।
অলি সরকারের পতনের পর ৫ মার্চ নেপালে অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচনে অভাবনীয় জয় পায় ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (আরএসপি)। বালেন্দ্র শাহ এই দলের প্রধান মুখ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে। শপথ নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে বালেন্দ্র শাহর সরকার কঠোর বার্তা দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
অলি ও রমেশ লেখকের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কাঠমান্ডুসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কে পি শর্মা অলির সমর্থকেরা বিক্ষিপ্তভাবে রাস্তায় নামার চেষ্টা করলেও পুলিশি কড়াকড়ির কারণে পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জেন-জি আন্দোলনের সমন্বয়কেরা এই গ্রেপ্তারকে ‘শহীদদের রক্তের প্রতি সুবিচার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আগামীকাল অলি ও রমেশকে আদালতে তোলা হতে পারে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।