তাইওয়ানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৩ জানুয়ারি। এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টিকে (ডিপিপি) হারাতে বিরোধী কুওমিনতাং (কেএমটি) এবং তাইওয়ান পিপলস পার্টি (টিপিপি) একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছিল। চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী এ দলগুলো যৌথভাবে একক প্রার্থী দেওয়ার কথা বলেছিল। একসঙ্গে প্রচারও চালাচ্ছিল। তবে একক প্রার্থী নির্বাচনে কোনো অগ্রগতি ছাড়াই বিরোধী এ জোটটি বিভক্ত হয়ে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার তারা আলাদা আলাদা প্রার্থী নিবন্ধন করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুওমিনতাং ও তাইওয়ান পিপলস পার্টির মধ্যকার বিরোধের কারণে ক্ষমতায় থাকতে বেইজিংয়ের চাপ উপেক্ষাকারী ডিপিপির পথ আরও সুগম হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড দাবি করে চীন। পূর্ব এশিয়ার দেশটির ওপর ক্রমেই সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ জোরদার করছে চীনা কর্তৃপক্ষ। তবে ক্ষমতাসীন ডিপিপি বেইজিংয়ের চাপ উপেক্ষা করে জনগণের সমর্থন নিয়ে টিকে থাকতে চাইছে। মূলত এ জন্যই জানুয়ারির এ নির্বাচনের আয়োজন। চীন ডিপিপি ও দলটির প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের বিপজ্জনক বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে মনে করে এবং তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
গত বৃহস্পতিবার কেএমটি একটি হোটেলের কনফারেন্স রুমে টিপিপির সঙ্গে শেষ আলোচনা থেকে বেরিয়ে যায় এবং কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, যা টেলিভিশনে সরাসরি দেখানো হয়। আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছেন অ্যাপলের প্রধান সরবরাহকারী ফক্সকনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিলিয়নিয়ার টেরি গৌ, যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। পরে অবশ্য তিনি তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
এদিকে যৌথভাবে একক প্রার্থীর বদলে কেএমটি প্রেসিডেনশিয়াল প্রার্থী হিসেবে হাউ ইউ-ইহকে এবং টিপিপি কো ওয়েন জেকের নাম ঘোষণা করে। তাঁরা উভয়ই যথাক্রমে জ শ-কংকে এবং সিনথিয়া উকে তাঁদের রানিংমেট হিসেবে বেছে নিয়েছেন।