হোম > বিশ্ব > এশিয়া

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে নিহত অজ্ঞাতনামাদের গণকবর দেওয়া শুরু

ভিডিও ডেস্ক

নেপালের চিতওয়ানে আকস্মিক বন্যায় নিহতদের মরদেহ গণকবরের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। ছবি: এপি

নেপালের চিতওয়ান জেলার দেবঘাট বন এখন সাম্প্রতিক বন্যায় নিহত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অস্থায়ী কবরস্থানে পরিণত হয়েছে। চীন সীমান্তবর্তী রসুওয়া উপত্যকায় গত বুধবারের আকস্মিক বন্যায় ভেসে আসা শত শত মরদেহ সেখানে গণকবর দেওয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার ৯৬টি অজ্ঞাত মরদেহ দাফন করা হয়েছে এবং আজ রোববার আরও শতাধিক মরদেহ দাফন করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনো নদী ও ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করছেন।

গত বুধবারের হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৮১ জন নিহত এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

চিতওয়ানের প্রধান জেলা কর্মকর্তা গণেশ আরিয়াল বলেন, ‘আমাদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। দ্রুত পচনশীল মরদেহ জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছিল, তাই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’

প্রায় ১০০ জন উদ্ধারকর্মী, পুলিশ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তা নিহতদের নথিভুক্ত করা, মরদেহের ছবি তোলা, স্বজনদের শনাক্তে সহায়তা এবং দাফনের প্রস্তুতির কাজ করছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি কবরের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নথিভুক্ত করা হচ্ছে। কবরের ওপরে ও নিচে পরিচয়চিহ্ন বসানো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে মরদেহ শনাক্ত ও উত্তোলন করা যায়।

নেপাল সরকার অজ্ঞাত মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করেছে। স্বজনদের দাবি, সরকারি নথি বা জিনগত পরীক্ষার মাধ্যমে পরে পরিচয় নিশ্চিত হলে মরদেহ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।

ডিএনএ বিশ্লেষণে সহায়তার জন্য ভারত ইতিমধ্যে একটি ফরেনসিক দল পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে চীনের বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গেও সমন্বয় করছে নেপাল।

হাসপাতাল ও শনাক্তকেন্দ্রে হৃদয়বিদারক দৃশ্য

ভরতপুর হাসপাতালে অস্থায়ী মর্গের প্রায় ২০০ মিটার দূর থেকেই পচা মরদেহের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। রয়টার্সকে হাসপাতালের প্রবেশপথ পর্যন্ত যেতে দেয় কর্তৃপক্ষ।

মর্গের মেঝেতে প্রায় ১২৫টি মরদেহ রাখা রয়েছে, যার অনেকগুলো কয়েক দিন পানিতে থাকার কারণে মারাত্মকভাবে পচে গেছে। অথচ হাসপাতালটির ধারণক্ষমতা মাত্র ৫০টি মরদেহ।

উদ্ধারকাজ তদারককারী পুলিশ পরিদর্শক অনিল থাপা বলেন, ‘এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহের অর্ধেকেরও বেশি শনাক্ত করার মতো অবস্থায় নেই। অনেকের মুখমণ্ডলও অবশিষ্ট নেই।’

কয়েক শ মিটার দূরের চিতওয়ান এক্সপো সেন্টার নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে আসা মানুষের ভিড়ে পরিণত হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে স্বজনদের শনাক্তের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অনেক পরিবার দূরবর্তী জেলা থেকে ব্যাগপত্র নিয়ে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছে।

পাশের একটি পুরোনো একতলা ভবনকে অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণাগারে রূপান্তর করা হয়েছে। সেখানে বাঙ্ক বেডের ওপর সারিবদ্ধভাবে রাখা বডি ব্যাগ, বরফ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও শিল্পমানের কুলিং ইউনিট দিয়ে পচন রোধ করার চেষ্টা চলছে।

পুলিশ পরিদর্শক থাপা বলেন, ‘এখানে কাজ করতে এলে খাবারের কথাই মাথায় আসে না। খাওয়া তো দূরের কথা, পানি পান করতেও ইচ্ছা করে না।’

তথ্যসূত্র: রয়টার্স