বিশ্বখ্যাত মার্কিন রক ক্লাইম্বার অ্যালেক্স হোনোল্ড এবার নিজের জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিতে যাচ্ছেন। এবার তিনি কোনো সুরক্ষা দড়ি বা সরঞ্জাম ছাড়াই বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম টাওয়ারে চড়তে যাচ্ছেন। ভয়ংকর এই চ্যালেঞ্জটি শুক্রবারই (২৩ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘তাইপেই-১০১’ ভবনে। তাইওয়ানের রাজধানীতে অবস্থিত এই ভবনটি ১ হাজার ৬৬৭ ফুট উঁচু একটি আকাশচুম্বী টাওয়ার।
নেটফ্লিক্স প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে এই আরোহণ। চ্যালেঞ্জটিকে সামনে রেখে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে হোনোল্ড জানান, এই ধরনের আরোহণে যদি তিনি পড়ে যান, তবে তা মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তবে তিনি বলেন, ‘এই ভবনের ক্ষেত্রে বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। কারণ কয়েক তলা পর পর ভবনটির ব্যালকনি রয়েছে। টাওয়ারের আকার এমন যে—আপনি অনেক জায়গায় পড়তে পারেন এবং তাতেও মৃত্যু না হতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যের জন্য চ্যালেঞ্জটি অনেক রক ক্লাইম্বিং প্রজেক্টের তুলনায় কিছুটা নিরাপদ।’
২০০৪ সালে নির্মিত তাইপেই ১০১ মূলত কাচের ওয়াল দিয়ে তৈরি। ভবনটির শীর্ষের দিকে ব্যালকনিগুলো শীর্ষবিন্দুর দিকে ধীরে ধীরে সরু হয়ে গেছে। ২০১০ সালে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার নির্মাণের আগ পর্যন্ত এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন ছিল। হোনোল্ড নেটফ্লিক্সকে জানিয়েছেন, এই আরোহণের সবচেয়ে কঠিন অংশ হবে ‘বাঁশের বাক্স’ নামে ৮টি মধ্যবর্তী সেগমেন্ট। এই অংশগুলো ৬৪ তলার সমান উচ্চতায় অবস্থিত। আর ভবনটির ব্যালকনি রয়েছে প্রতি আট তলা পরপর।
চ্যালেঞ্জ নিয়ে হোনোল্ডের স্ত্রী স্যানি ম্যাকক্যান্ডলেস সম্প্রতি বলেছেন, ‘এটি অ্যালেক্সের স্বভাব। তিনি বাবা হয়ে গেলেও এটি তার আসল স্বভাব।’
হোনোল্ড ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়োসেমাইট ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত ‘এল ক্যাপিটান’ চূড়ায় ওঠে বিশ্বখ্যাত হন, যা ২০১৮ সালের অস্কার জয়ী ডকুমেন্টারি ‘ফ্রি সলো’-তে দেখানো হয়েছে। বিশ্বের সেরা ক্লাইম্বারদের মধ্যে একজন হলেও নতুন চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে হোনোল্ডের কিছু নার্ভাসনেস রয়েছে। তাইপেই-১০১ ভবনে আরোহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘৩০ বছর রক ফেসে চড়েছি, তবে এটি আমার প্রথম কোনো মানুষের তৈরি বড় কাঠামো, তাই কিছুটা ভিন্ন অনুভূতি হচ্ছে।’