হোম > বিশ্ব > এশিয়া

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি আতঙ্কে মানুষের ছোটাছুটি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

শনিবার ভোরের দিকে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপে আজ শনিবার ভোরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

ভূমিকম্পের পরপরই উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হলে আতঙ্কে হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেন। তবে পরবর্তীতে এই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

দেশটির ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (বিএনপিবি) প্রথম দিকে দু’জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে সংস্থাটি জানায়, নিশ্চিতভাবে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং চারজন আহত হয়েছেন।

ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল দেশটির পর্যটন নগরী বালি থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে। ফ্লোরেস দ্বীপের প্রধান শহর মাউমেরেতে ভূকম্পন শুরু হতেই মানুষজন আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন। মাউমেরে বন্দর থেকে প্রাপ্ত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, টার্মিনাল ভবনের বড় বড় কংক্রিটের চাঙ্গড় ভেঙে আন্তঃদ্বীপ ফেরির জন্য অপেক্ষারত যাত্রীদের ওপর পড়ে। এ সময় জাহাজে ওঠার গ্যাংওয়ে ধসে পড়লে কয়েকজন যাত্রী সাগরে ছিটকে পড়েন।

উদ্ধারকারী দল বর্তমানে মাউমেরে শহরের ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে। তবে এলাকাটি দুর্গম ও পাহাড়ি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর পৌনে ৫টার দিকে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর গভীরতা ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১৫ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের পরপরই সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিকভাবে পিছিয়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র সুনামি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সিক্কা অঞ্চলের তালিবুরা গ্রামের বাসিন্দা আর্নল্ড ওয়েলিয়ান্তো বিবিসিকে বলেন, ‘তীব্র ঝাঁকুনিতে আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমি দ্রুত সন্তানের রুমে যাই। আমরা বাইরে বেরিয়ে দেখি উপকূলের কাছের বাসিন্দারা ইতিমধ্যেই ঘরবাড়ি ছেড়ে পাহাড়ের দিকে ছুটছেন।’

তিনি আরও জানান, সমুদ্রের পানি দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাভাবিক নিচে নেমে গিয়েছিল, যা দেখে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের লোকজনকেও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ভূমিকম্পের পর ওই একই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়, যার মধ্যে একটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

সংস্থাটির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেসব ভবনে ফাটল ধরেছে বা কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোতে কোনোভাবেই প্রবেশ করা যাবে না। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে আমাদের একটি দল দ্রুত জরিপ চালাচ্ছে।

অনবরত আফটারশকের ভয়ে স্থানীয় অনেক অধিবাসী এখনো খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন এবং এখনই ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।