নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে এখন উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের। গতকাল বুধবার (২৬ আগস্ট) পাহাড়ি গিরিখাত বেয়ে নেমে আসা প্রবল বন্যার পানি নেপালে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি করে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে শত শত বিদেশি নাগরিকসহ বহু মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে সিএনএন জানায়—যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে নিখোঁজদের স্বজনেরা মরিয়া হয়ে উদ্ধারকাজের খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের এক চিকিৎসক, নিউজিল্যান্ডের দুই সন্তানের এক মা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন কিশোর।
নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ত্রিশুলি নদীর তীরবর্তী রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলায় অবস্থিত। এসব এলাকায় তামাং, গুরুং ও নেওয়ারসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর কয়েক লাখ মানুষের বসবাস। অনেকেই কৃষির ওপর নির্ভরশীল হলেও পর্যটন, ট্রেকিং, রাফটিং ও ধর্মীয় তীর্থও এখানকার গুরুত্বপূর্ণ জীবিকা।
প্রতি বছর গ্রীষ্ম ও শরৎকালে হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও বনপো ধর্মাবলম্বী অসংখ্য তীর্থযাত্রী এই অঞ্চল দিয়ে তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বতের পথে যাত্রা করেন। ফলে দুর্যোগের সময় ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীর উপস্থিতি ছিল।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অন্তত ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭৮ জন ভারতীয়, ৬৫ জন মার্কিন, ৫৩ জন ইউক্রেনীয়, ৫১ জন মালয়েশীয়, ৩৫ জন অস্ট্রেলীয়, ৩৩ জন ব্রিটিশ ও ২৫ জন কানাডীয় নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া আরও দুই ডজনের বেশি দেশের নাগরিক নিখোঁজের তালিকায় আছেন।
চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেপাল সীমান্তে প্রথমে শক্তিশালী ভূমিধসের পর চীনের গ্যিরং বন্দরে কাদাধস আঘাত হানে। এটি নেপাল-চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থল সীমান্তপথ। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে নিখোঁজ ৫৫৮ জনের মধ্যে অন্তত ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।
এদিকে নেপালজুড়ে স্বজনদের খোঁজে আহাজারি চলছে। এর মধ্যে কাঠমান্ডুর বাসিন্দা অস্মিতা দাহালের ২১ বছর বয়সী ভাই সুমন দাহাল নিখোঁজ। তিনি কৈলাসগামী তীর্থযাত্রীদের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে কাজ করতেন। পরিবারের আশঙ্কা, ত্রিশুলি নদীর বন্যায় তাঁর বাসটি হয়তো ভেসে গেছে।
২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে থাকা এসব দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর নতুন এই বিপর্যয় নেমে এসেছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নিহত ও নিখোঁজদের পূর্ণাঙ্গ নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় স্বজনদের উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে।