ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বাসিলান প্রদেশের উপকূলে ৩৫০ জনেরও বেশি আরোহী নিয়ে একটি ফেরি ডুবে গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সময় গতকাল রোববার মধ্যরাতের পর এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি তৃষা কার্স্টিন–৩ জাম্বোয়াঙ্গা বন্দর শহর থেকে দক্ষিণ সুলু প্রদেশের জোলো দ্বীপের দিকে যাচ্ছিল।
ফিলিপাইন কোস্টগার্ড জানিয়েছে, জাহাজটিতে নথিবদ্ধ ৩৩২ জন যাত্রী এবং ২৭ জন ক্রু ছিলেন।
সাউদার্ন মিন্দানাও ডিস্ট্রিক্টের কোস্টগার্ড কমান্ডার রোমেল দুয়া রেডিও স্টেশন ডিজেডবিবিকে জানান, এখন পর্যন্ত ২১৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ বাকি ১৪৪ জনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দুয়া আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বাসিলান প্রদেশের একটি শহরের মেয়র আরসিনা লাজা কাহিং-নানোহ ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, ফেরিডুবির ঘটনায় অন্তত ‘আটজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।’ তিনি কোস্টগার্ড কর্মীদের বেশ কিছু মানুষকে উদ্ধার করার এবং পানি থেকে মরদেহ নৌকায় তোলার একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন।
এক পৃথক ভিডিও বিবৃতিতে কাহিং-নানোহ যোগ করেন , উত্তাল সমুদ্র এবং অন্ধকারের কারণে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। বাসিলানের জরুরি উদ্ধারকারী দলের সদস্য রোনালিন পেরেজ এএফপি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন যে, এ পর্যন্ত ‘অন্তত ১৩৮ জনকে’ উদ্ধার করা হয়েছে।
পেরেজ বলেন, ‘আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বিপুল সংখ্যক রোগী আসা। এই মুহূর্তে আমাদের কর্মীর অভাব রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ১৮ জনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পিসিজি জানিয়েছে, উদ্ধার তৎপরতা এখনও চলছে। মিন্দানাওয়ের কোস্টগার্ড কমান্ডার দুয়া বলেন, ফেরিটি ডুবে যাওয়ার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয় এবং এ নিয়ে তদন্ত করা হবে। তিনি আরও যোগ করেন যে, জাম্বোয়াঙ্গা বন্দর ছাড়ার আগে কোস্টগার্ড ফেরিটিকে ছাড়পত্র দিয়েছিল এবং অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কোনো লক্ষণ ছিল না।
ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জে ঘন ঘন ঝড়, জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, অতিরিক্ত যাত্রী এবং বিশেষ করে প্রত্যন্ত প্রদেশগুলোতে নিরাপত্তা বিধি প্রয়োগে শিথিলতার কারণে সামুদ্রিক দুর্ঘটনা খুবই সাধারণ। গত শুক্রবারও মিন্দানাও দ্বীপ থেকে চীন যাওয়ার পথে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি মালবাহী জাহাজ ডুবে অন্তত দুইজন ফিলিপিনো নাবিক নিহত হন এবং ১৫ জনকে উদ্ধার করা হয়। আরও চারজন নাবিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরে মধ্য ফিলিপাইনে একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কারের সঙ্গে সংঘর্ষে ডোনা পাজ নামে একটি ফেরি ডুবে ৪ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সামুদ্রিক বিপর্যয় হিসেবে পরিচিত।