জাপানে ১৫ দিনের পর্যটক ভিসায় গিয়ে প্রায় ২৬ বছরের বেশি সময় অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে ৭২ বছর বয়সী এক দক্ষিণ কোরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি সর্বশেষ জাপানের শিজুওকা প্রিফেকচারের ইয়াইজু শহরে বসবাস করছিলেন। তিনি ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে ১৫ দিনের পর্যটক ভিসায় জাপানে প্রবেশ করেন। তবে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি দেশটিতে থেকে যান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী—২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জাপানে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থান করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা শুরু হয়। এর আগে ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে থাকলেও সেটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দণ্ডনীয় ছিল না। এ কারণে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দীর্ঘ সময় অবৈধভাবে জাপানে অবস্থানের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে।
জাপান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি তাঁর ভাইয়ের পাসপোর্ট ব্যবহার করে জাপানে প্রবেশ করেছিলেন বলে পুলিশের ধারণা। উন্নত বেতনের চাকরির আশায় তিনি এভাবে জাপানে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর তিনি প্রায় পুরো সময়জুড়ে জাপানেই অবস্থান করেন এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন ধরনের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কাজ করেছেন। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত জুনে একটি বেনামি সূত্র থেকে তথ্য পাওয়ার পর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, জাপানে অবস্থানকালে বিভিন্ন দিনমজুরির কাজ করেই জীবিকা চালাতেন।
তবে বৈধ ভিসা বা কাজের অনুমতি ছাড়া তিনি কীভাবে এত দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি বা কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন, তা স্পষ্ট নয়।
জাপানের অভিবাসন আইনে বিদেশি নাগরিকদের অনুমোদিত সময়সীমার বেশি দেশটিতে অবস্থান করা নিষিদ্ধ। পাশাপাশি প্রবেশের সময় যে ধরনের কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়, তার বাইরে অন্য কোনো কাজে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে।
জাপানি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভিসার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড, সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড কিংবা সর্বোচ্চ ৩০ লাখ ইয়েন জরিমানা হতে পারে।
জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে ৬৮ হাজার ৪৮৮ জন বিদেশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করছিলেন। তবে ১৯৯৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯৮ হাজার ৬৪৬—যা সেই সময়ের রেকর্ড সর্বোচ্চ।
দীর্ঘ ২৬ বছরেরও বেশি সময় জাপানে অবৈধভাবে অবস্থানের পর গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তিকে শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।