হোম > বিশ্ব > এশিয়া

মেয়ের ভেসে যাওয়ার মুহূর্তটি স্মরণ করলেন অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা মনীষার বাবা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৬০ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করা হয় পাঁচ বছরের মনীষাকে। ছবি: সিএনএন

নেপালের হিমালয়সংলগ্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ধসে তছনছ হয়ে গেছে অসংখ্য পাহাড়ি গ্রাম। ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর সিএনএনের সাংবাদিক উইল রিপলির ক্যামেরায় উঠে এসেছে পাঁচ বছর বয়সী মনীষার অলৌকিক ও আবেগঘন বেঁচে ফেরার গল্প।

মনীষার বাবা জানান, ঘটনার দিন সকালে তিনি ছোট মেয়ে মনীষাকে নাশতা করিয়ে কাজের জন্য মাঠে যাচ্ছিলেন। বাড়ি থেকে তাঁর বের হওয়ার ঠিক কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এক বিকট শব্দে আকস্মিক বন্যা ও ধস নেমে আসে। তিনি বাড়ির দিকে ছুটে আসেন, কিন্তু সেখানে আর কোনো বাড়ির অস্তিত্ব ছিল না।

কয়েক ঘণ্টা পর যখন মনীষার বাবা তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হন, মেয়ের শোকে তাঁরা দুজন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং চেতন হারান। ততক্ষণে তাঁরা ধরে নিয়েছিলেন, তাঁদের আদরের পাঁচ বছরের ছোট মেয়েটি আর বেঁচে নেই।

কিন্তু মনীষা নিজের ভেঙে পড়া বাড়ির নিচে নয়, বরং ধসের তোড়ে ভেসে গিয়ে আরও দুটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছিল। সেখানে অলৌকিকভাবে একটি ছোট ‘এয়ার পকেট’ (বাতাস চলাচলের ফাঁকা স্থান) তৈরি হওয়ায় সে টানা ৬০ ঘণ্টা ধরে অন্ধকার ও ধুলাবালুর মধ্যে শ্বাস নিতে পেরেছিল।

দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারীরা যখন ওই এলাকায় জীবিত মানুষের সন্ধান করছিলেন, তখন ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ক্ষীণ শব্দ শুনতে পান তাঁরা। প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন, কোনো বিড়াল হয়তো আটকে আছে। কিন্তু সাবধানে প্রায় দুই ঘণ্টা মাটি ও ইট-পাথর সরানোর পর তাঁরা নিশ্চিত হন, এটি কোনো প্রাণী নয়, একটি ছোট্ট শিশু!

উদ্ধারের সময় মনীষার শরীর মারাত্মক ক্ষতবিক্ষত ছিল এবং তার মুখ চেনা যাচ্ছিল না। খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে হেলিকপ্টার না আসায় উদ্ধার ক্যাম্পে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ভাতের মাড় খেতে দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে কাঠমান্ডুর টিচিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মেয়ে বেঁচে আছে বা উদ্ধার হয়েছে, তা মা-বাবা জানতে পেরেছিলেন ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া উদ্ধার অভিযানের একটি ভিডিও দেখে। ভিডিওতে নিজেদের সন্তানকে চেনার পর মনীষার বাবা শুধু বলেছিলেন, ‘ও আমার বাচ্চা...এরচেয়ে বেশি কিছু আমি বলতে পারছি না।’

হাসপাতালে মা-বাবার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর মনীষা তার মায়ের কাছে আকুতি জানিয়ে কেঁদে বলে, ‘বন্যা এসে আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, আমি মা, বাবা বলে চিৎকার করে ডেকেছি...তোমরা কেন আমাকে বাঁচাতে এলে না?’

মনীষার বাবার চোখে তখন অশ্রু, কিন্তু বুকে জড়িয়ে ধরা সন্তানকে জীবিত দেখে তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।