হোম > বিশ্ব > এশিয়া

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৩৪১টি আফটারশক, নিহত বেড়ে ৫১

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ঘর ছেড়ে বাইরে আশ্রয় নেন অনেকে। ছবি: এএফপি

পূর্ব ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প ও এর পরবর্তী আফটার শকে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট ভূমিধস ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রোববার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সকালে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে ৩৬ জন গুরুতর আহত এবং আরও ৭৭ জন সামান্য আহত হয়েছেন বলে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বৈঠকে জানান দেশটির উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেঞ্জামিন পাউলুস অক্টাভিয়ানুস।

ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর প্রায় ৩৪১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। ২০২২ সালে পশ্চিম জাভায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটানো ভূমিকম্পের পর এটিই ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প বলে জানানো হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানায়, সিক্কা অঞ্চলে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিজেরাই নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন অথবা একটি ক্রীড়াঙ্গনে আশ্রয় নিয়েছেন। ভূমিকম্পের পর সিক্কার অনেক বাসিন্দা ধসে পড়া বাড়িঘরের বাইরে ত্রিপল দিয়ে তৈরি অস্থায়ী তাঁবুতে রাত কাটিয়েছেন। বন্দরনগরী মাউমেরেতেও হাসপাতালের বাইরে তাঁবুতে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ৬৩ বছর বয়সী আবদুল মুতাস রয়টার্সকে বলেন, ভূমিকম্পের পর তিনি ও তার পরিবার সিক্কা শহরে গাছপালায় ঘেরা একটি ত্রিপলের ওপর রাত কাটিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু আমার শরীরটুকু নিয়ে বের হতে পেরেছিলাম।’ ভূমিকম্পের সময় জোয়ারের পানি বাড়তে থাকায় তারা দৌড়ে পালিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। সিক্কার ডেপুটি রিজেন্ট সাইমন সুবান্দি কমপাসটিভিকে বলেন, ‘সিক্কার প্রায় অধিকাংশ বাসিন্দাই ঘরের ভেতরে থাকতে সাহস করেননি। তারা বারান্দায় অথবা বাইরে তাঁবুর মধ্যে ঘুমিয়েছেন।’

উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্যাবিনেট সেক্রেটারি টেডি ইন্দ্রা উইজায়া।

ইন্দোনেশিয়া সরকারের অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিধসের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মাউমেরের কয়েকটি এলাকায় উদ্ধারকারীরা পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এখনো নিখোঁজ মানুষের কোনো তাৎক্ষণিক হিসাব পাওয়া যায়নি। বিএনপিবি জানিয়েছে, নিখোঁজদের বেশিরভাগই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ টির বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ২০টি পেট্রল স্টেশনও কার্যক্রম চালাতে পারছে না বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেরতামিনা।

এদিকে, পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনা করছে প্রাদেশিক সরকার। বিএনপিবি জানিয়েছে, জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে দ্রুত সম্পদ ও অর্থায়ন mobilise করা সম্ভব হবে।

ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের এলাকাটি ১৯৯২ সালে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে আক্রান্ত হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছিল। প্রায় ২৯ কোটি মানুষের ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত। টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষের কারণে বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এই অঞ্চলে নিয়মিত ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।