হোম > বিশ্ব > এশিয়া

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রতীক ইয়াসুকুনি মন্দিরে যাননি জাপানের প্রধানমন্ত্রী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

শনিবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মরণে চিডোরিগাফুচি জাতীয় সমাধিক্ষেত্রে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ছবি: এএফপি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের ৮১ তম বার্ষিকীতে বিতর্কিত ইয়াসুকুনি মন্দিরে যাননি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তবে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমির মন্দিরটি পরিদর্শন ঘিরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। দক্ষিণ কোরিয়াও ইতিহাসের বেদনাদায়ক অধ্যায় স্মরণ করে জাপানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্কতার বার্তা দিয়েছে।

টোকিওর ইয়াসুকুনি মন্দিরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত প্রায় ২৪ লাখ জাপানিকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন যুদ্ধাপরাধীও রয়েছেন। এ কারণে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে মন্দিরটি জাপানি সামরিকতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চীন, কোরিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল জাপান।

রোববার (১৬ আগস্ট) যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আগে আত্মসমর্পণ দিবসে মন্দিরটি পরিদর্শনের প্রতিশ্রুতি দিলেও এবার সেখানে যাননি। তাঁর এই পদক্ষেপ চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তবে গতকাল শনিবারের (১৫ আগস্ট) ভাষণে তিনি এশিয়ায় জাপানের যুদ্ধকালীন আগ্রাসন ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেননি এবং এর জন্য অনুশোচনাও প্রকাশ করেননি।

অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোইজুমি মন্দিরে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তাঁর সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের আরও তিন নেতা সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলিও রাখেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাপানি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সফরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযোগ করেছে, এর উদ্দেশ্য যুদ্ধাপরাধীদের দায় পুনর্বিবেচনা করা, জাপানের যুদ্ধাপরাধ আড়াল করা এবং ইতিহাস বিকৃত করে দেশটির সামরিকীকরণ ত্বরান্বিত করা।

বেইজিং জাপানকে ‘গভীর আত্মসমালোচনা’ করার এবং সামরিকতন্ত্র থেকে দূরে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেন, দুই দেশের অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসের যন্ত্রণায় এখনো যারা ভুগছেন, তাঁদের প্রতি সম্মান রেখেই নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

এদিকে সম্রাট নারুহিতো যুদ্ধের ভয়াবহতা আর কখনো ফিরে না আসার আশা প্রকাশ করেছেন। অতীতের দিকে গভীর অনুশোচনা নিয়ে তাকিয়ে যুদ্ধের সময়কার দুর্ভোগের স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।