হোম > বিশ্ব > এশিয়া

পাঁচ শব্দে দীর্ঘায়ুর রহস্য জানানো জাপানের প্রবীণতম নারীর মৃত্যু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

শিগেকো কাগাওয়া ১১৫ বছর বয়সে মারা গেছেন। ছবি: দি ইনডিপেনডেন্ট

জাপানের সবচেয়ে প্রবীণ জীবিত ব্যক্তি শিগেকো কাগাওয়া ১১৫ বছর বয়সে মারা গেছেন। নারা প্রিফেকচারের ইয়ামাতোকোরিয়ামা শহরের বাসিন্দা কাগাওয়া গতকাল বৃহস্পতিবার ১১৫ বছর ৯১ দিন বয়সে মারা যান। জীবদ্দশায় কেউ তাঁর কাছে দীর্ঘ জীবন পাওয়ার রহস্য জানতে চাইলে তিনি পাঁচ শব্দে উত্তর দিতেন—‘হাঁটা এবং মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখা।’

কাগাওয়ার পরিবার জানিয়েছে, তিনি নিয়মিত জীবন যাপন করতেন। প্রতিদিন তিন বেলা পরিমিত খাবার খেতেন এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস ছিল তাঁর। বয়স বাড়লেও দৈনন্দিন রুটিনে বড় কোনো পরিবর্তন আনেননি।

১৯১১ সালের ২৮ মে জন্ম নেওয়া কাগাওয়া ১৯৩৪ সালে ওসাকা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় স্নাতক হন। পরে ইয়ামাতোকোরিয়ামায় নিজস্ব চিকিৎসাকেন্দ্র খুলে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ শুরু করেন। আশির দশক পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা দিয়ে যান তিনি। কলেরায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায়ও তিনি বিশেষভাবে কাজ করেছেন।

১৯৪৭ সালে বিয়ে করেন কাগাওয়া। পরের বছর তাঁর একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। পরবর্তী সময়ে নাতি-নাতনিসহ পরিবারও বড় হয়।

চিকিৎসা পেশা থেকে অবসর নেওয়ার পরও ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তিনি। ২০২১ সালের এপ্রিলে ১০৯ বছর ১০ মাস বয়সে টোকিও অলিম্পিকের মশালবাহক হিসেবে অংশ নেন কাগাওয়া। এর মাধ্যমে তিনি সবচেয়ে বেশি বয়সে অলিম্পিকের মশাল বহনকারী ব্যক্তি হিসেবে রেকর্ড গড়েন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, মানুষ তাঁকে উৎসাহ দেবে—এটা তিনি ভাবেননি; সবার ভালোবাসায় তিনি খুব আনন্দিত।

২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে তাঁর অসাধারণ শারীরিক সুস্থতার চিত্র উঠে আসে। এত বেশি বয়সেও তাঁর কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ ছিল না এবং প্রায় কোনো ওষুধই খেতে হতো না। শ্রবণশক্তি কিছুটা কমে গেলেও স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারতেন। টেলিভিশন দেখা ও সংবাদপত্র পড়ার মতো ভালো দৃষ্টিশক্তিও তাঁর ছিল।

তাঁর দীর্ঘায়ুর মূলমন্ত্র ছিল হাঁটা ও মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখা। চিকিৎসকজীবনে রোগী দেখার জন্য মাইলের পর মাইল হেঁটে বাড়ি বাড়ি যেতেন। পরবর্তী জীবনেও ক্যালিগ্রাফি ও ‘স্পট দ্য ডিফারেন্স’-এর মতো ধাঁধা সমাধানের মাধ্যমে মস্তিষ্ক সচল রাখতেন।

কাগাওয়ার মৃত্যুর পর জাপানের সবচেয়ে প্রবীণ জীবিত ব্যক্তি এখন ১১৪ বছর বয়সী ফুয়ো কিশিমোতো। তিনি কিয়োটোতে বসবাস করেন।