হোম > বিশ্ব > এশিয়া

৭০ বছরের কমান্ডারকে বিয়ে না করায় তালেবানের কারাগারে কিশোরী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

প্রতীকী ছবি

আফগানিস্তানে ৭০ বছর বয়সী এক প্রভাবশালী তালেবান কমান্ডারের সঙ্গে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় এক কিশোরীকে প্রায় দুই বছর ধরে কারাগারে আটকে রাখা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আফগান নারী অধিকার সংগঠন রেভল্যুশনারি অ্যাসোসিয়েশন অব দ্য উইমেন অব আফগানিস্তান (আরএডব্লিউএ) জানিয়েছে, বিবি সিদিকা নামের ওই কিশোরী গত ২১ মাস ধরে বাদগিস প্রদেশের একটি তালেবান কারাগারে বন্দী রয়েছে।

স্বাধীন আফগান গণমাধ্যম রুখশানা জানিয়েছে, বিবির বয়স যখন ১২ বছর, তখন তার বাবার কাছে থাকা ঋণের বিনিময়ে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান কমান্ডার মাওলভি খোদাইনাজার। পরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মেয়েটির বাবাকে বিয়েতে সম্মতি দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। তবে চাপের মুখেও বিয়েতে রাজি হয়নি বিবি সিদিকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালেবানের একটি আদালত প্রথমে বিবির পক্ষেই রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু খোদাইনাজার বাদগিসের এক বিচারককে প্রভাবিত করে মামলাটি অন্য একটি আদালতে স্থানান্তর করান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই আদালত কিশোরীকে কারাদণ্ড দেন। বিবির পরিবারের অভিযোগ, ওই রায় অন্যায্য ছিল।

রুখশানার তথ্য অনুযায়ী, ১৪ বছর বয়সে কারাগারে পাঠানো বিবির এখন বয়স ১৭ বছর। তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারাগারে তাকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ বন্দিত্ব ও নির্যাতনের ফলে সে গুরুতর মানসিক আঘাতের শিকার হয়েছে বলেও জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র। মেয়ের বন্দিত্বের কারণে তার মায়েরও গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আরএডব্লিউএর সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্প্রতি তালেবান কর্তৃপক্ষ একটি আপসের প্রস্তাব দিয়েছে। এতে খোদাইনাজারের সঙ্গে বিবির তিন দিনের জন্য বিয়ের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়। তবে পরিবার জানিয়েছে, এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং ঘটনাটি তদন্তে কোনো স্বাধীন কমিটিও গঠন করা হয়নি।

২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকে তালেবানের বিরুদ্ধে অল্পবয়সী মেয়েদের জোরপূর্বক বিয়ে ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ রয়েছে। দেশটিতে বিয়ের ন্যূনতম বয়স নিয়ে স্পষ্ট আইনি কাঠামোও নেই। ‘বাদ’ নামে প্রচলিত একটি প্রথায় বিরোধ বা ঋণ পরিশোধের বিনিময়ে পরিবারগুলো মেয়েদের অন্য পক্ষের হাতে তুলে দেয়। ২০০৯ সালের আইনে এই প্রথা নিষিদ্ধ করা হলেও তালেবান শাসনে এটি আবারও ফিরে এসেছে বলে অভিযোগ।

সম্প্রতি তালেবান ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করেছে। কাবুলে সামরিক কুচকাওয়াজের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজন করা হলেও নারীদের এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বা উপস্থিতির অনুমতি দেওয়া হয়নি।

নারী অধিকারকর্মী ব্যারনেস হেলেনা কেনেডি তালেবানের ওপর চাপ বাড়াতে ব্রিটেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পরিস্থিতিকে ‘জেন্ডার অ্যাপারথাইড’ বা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যমূলক শাসন হিসেবে উল্লেখ করে তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা দেশগুলোর মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান।