হোম > বিশ্ব > এশিয়া

নেপালের মর্গে লাশের স্তূপ—প্রকৃত কি তাঁর মায়ের খোঁজ পাবেন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

আকস্মিক বন্যার প্রশস্ত হয়ে গেছে ত্রিশূলী নদী। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে হাহাকার চলছে। মর্গগুলোতে মরদেহ রাখার জায়গা ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক মরদেহ দাফন করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিখোঁজ ও নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’ জানিয়েছে, ১৯ বছরের কিশোরী প্রকৃত গুরুঙও মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে রক্তের নমুনা দিয়েছেন। তাঁর আশা, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বন্যায় ভেসে যাওয়া তাঁর মায়ের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হবে। প্রকৃতের বাবার মরদেহ ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। হাসপাতালের বাইরে টাঙানো ছবিতে তাঁর ভাই বাবাকে শনাক্ত করেন।

সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, সরকারি আহ্বানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিখোঁজদের স্বজনেরা রক্তের নমুনা দিতে আসছেন। বিদেশে থাকা স্বজনদেরও ডিএনএ নমুনা পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা কয়েকটি নেপালি পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা রমেশ্বর অধিকারী বলেন, ‘আমরা ভাইবোন বা সরাসরি আত্মীয়দের কাছ থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করছি। মানুষ উপত্যকার বিভিন্ন এলাকা এবং দেশের নানা প্রান্ত থেকে নমুনা দিতে আসছেন।’

বন্যায় এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় চার হাজার মানুষ। নিখোঁজ ও নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩৮ জন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বলে জানা গেছে। নিখোঁজ ২৫ অস্ট্রেলীয় নাগরিকের পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের আরও সহায়তা চেয়েছেন।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি চীনা সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলা। সেখানে বহু এলাকায় এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। তিমুরে গ্রামের বাসিন্দা ৫৩ বছর বয়সী লাখপা ঘা বলেন, বন্যায় তাঁর বাবা, ভগ্নিপতি, ছেলে, পুত্রবধূ, চার বছরের নাতনি, মেয়ে ও বোনের ছেলে—পরিবারের সাতজনই ভেসে গেছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি আমার পুরো পরিবারকে হারিয়েছি। আমরা সবাইকে হারিয়েছি।’

ঘা জানান, সেনাবাহিনী এখনো তাঁদের গ্রামে পৌঁছাতে পারেনি। রাস্তা ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জাতিসংঘও জানিয়েছে, উঁচু এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তা অ্যামি স্যাগিটা লেফেভর বলেন, দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে, তবে সীমিত পরিসরে। সংস্থাটি তাঁবু, কম্বল, দড়ি, ত্রিপল, বালতি ও নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক পরিবারকে অপেক্ষাকৃত দূরের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।

বন্যার পর প্রায় ২ হাজার ৬০০ শিশুর গুরুতর অপুষ্টির চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। শতাধিক শিশু বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ত্রাণকর্মীরা পানিদূষণ, রোগের বিস্তার ও অতিরিক্ত ভিড়ের পাশাপাশি শিশু পাচারের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে মেয়েশিশু পাচারের ইতিহাস থাকা এই অঞ্চলে দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে পাচারকারীরা সক্রিয় হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সেভ দ্য চিলড্রেন।