হোম > বিশ্ব > এশিয়া

ইন্দোনেশিয়ায় ৭৫০ সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা, ৭০ ট্রিলিয়ন রুপিয়া সাশ্রয়ের লক্ষ্য

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। ফাইল ছবি

চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৭৫০ টিরও বেশি অলাভজনক ও অনুৎপাদনশীল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার নজিরবিহীন ঘোষণা দিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের গত ৩০ বছরের অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে একটি বিশেষ ‘অ্যাডহক’ আদালত গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

আজ শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্টে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট প্রাবোও তাঁর ভাষণে অভিযোগ করেন, দেশে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এমন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলো মূলত ‘অনুৎপাদনশীল’। এগুলো বছরের পর বছর ধরে লোকসান গুনলেও তা আড়াল করতে কাগজে-কলমে ভুয়া মুনাফা দেখিয়ে আসছিল।

প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হয়তো ৩০০ বা ৪০০টি হবে। কিন্তু পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই সংখ্যা ১ হাজার ৭৪টি।’ তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই রাষ্ট্রের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা না রেখে নিজেদের মতো পরিচালিত হচ্ছিল।

উল্লেখ্য, গত বছর রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষায় ‘দানান্তারা’ নামে একটি সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠন করে ইন্দোনেশিয়া। ওই তহবিলের মাধ্যমে জাতীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব পর্যালোচনা করতে গিয়েই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বিপুল এই সংখ্যা প্রকাশ পায়।

প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অনুৎপাদনশীল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক বেশি। তারা সব সময় লোকসান করছে, অথচ মুনাফা দেখাচ্ছে। এসব মুনাফা আসলে কাগজে-কলমে তৈরি করা।’

প্রেসিডেন্ট জানান, রাষ্ট্রীয় খাতের এই ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ২৯০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মোট সংখ্যা ৩০০-এর মধ্যে নামিয়ে আনা হবে।

প্রাবোও সুবিয়ান্তো জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা ৭৫০ টির বেশি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেব। কেবল সেগুলোই রাখা হবে, যেগুলো প্রকৃতপক্ষে উৎপাদনশীল।’

এই পুরো উদ্যোগকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় করপোরেট পুনর্গঠনগুলোর একটি’ বলে বর্ণনা করেন প্রেসিডেন্ট।

ইন্দোনেশিয়া সরকারের হিসাব মতে, পরিচালনা পর্ষদের বেতন-ভাতা হ্রাস, ভবন ও গাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ভ্রমণ কাটছাঁট করার মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন ইন্দোনেশীয় রুপিয়াহ (প্রায় ২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) পরিচালন ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। চলতি বছরে সরকারের লক্ষ্য হলো এই সাশ্রয়ের পরিমাণ ৭০ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহর ওপরে নিয়ে যাওয়া।

রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রুখতে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গত ৩০ বছর ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা তদন্তের জন্য একটি বিশেষ ‘অ্যাডহক’ আদালত গঠনের প্রস্তাব পার্লামেন্টে পেশ করেছেন প্রেসিডেন্ট। তবে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি একটি নমনীয় পথও খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রাবোও। তিনি আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, যেসব কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপক নিজেদের অনিয়ম ও ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হবেন, তাঁদের জন্য যেন একটি ‘বিশেষ সাধারণ ক্ষমা’ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।