থাইল্যান্ডের ননথাবুরি প্রদেশের একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর গুলিতে অন্তত এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন শিক্ষক ও তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। গুলি চালানোর পর সন্দেহভাজন শিক্ষার্থী নিজেও আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার সকালের দিকে ব্যাংককের উত্তরে ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলি চালানো ব্যক্তি ওই স্কুলেরই শিক্ষার্থী। ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডেচরাপি কংদে রয়টার্সকে হতাহত ও হামলাকারীর আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হঠাৎ গুলির শব্দে স্কুলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী রয়টার্সকে জানান, প্রথমে তিনি গুলির শব্দ বুঝতে পারেননি। তার মনে হয়েছিল, হয়তো কেউ আতশবাজি ফোটাচ্ছে অথবা কোনো জিনিসে আঘাত করছে। ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রথমে আমি ভাবতেই পারিনি যে এটা বন্দুকের গুলির শব্দ। অনেকগুলো গুলি চলেছিল—ঠাস ঠাস ঠাস। এরপর কিছুক্ষণ নীরবতা ছিল। তারপর আবার শুরু হলো।’
ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা দ্রুত স্কুল থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে। জরুরি উদ্ধারকর্মীদের ছড়িয়ে দেওয়া ছবিতে ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিম উপকণ্ঠে অবস্থিত দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। একই সঙ্গে স্কুলের বাইরে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স অবস্থান করছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ছবিতে অ্যাম্বুলেন্সের বাইরে স্ট্রেচারে একজনকে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। আরেকজন আহত ব্যক্তির পাশে একজন চিকিৎসাকর্মীকে চিকিৎসা দিতে দেখা যায়।
জেলা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে প্রায় ৩ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। ওই সময় স্কুলটিতে শিক্ষক ছিলেন ১৪৭ জন।
থাইল্যান্ডে স্কুলে গুলির ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হাত ইয়াই জেলায় একটি স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে একজন শিক্ষক নিহত এবং একজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন।