ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপে আজ শনিবার ভোরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধার কর্মকর্তা ফাথুর রহমান জানিয়েছেন, দ্বীপটির চারটি শহরে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ছয়জন এবং দুজন এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন।
প্রতিবেশী মাংগারাই অঞ্চলে ধ্বংসস্তূপের নিচে দুই ব্যক্তি জীবিত আটকে আছেন বলে জানা গেছে।
ফাথুর রহমান বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করা। ভূমিধসের কারণে বেশ কয়েকটি সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে, যা উদ্ধার অভিযানকে জটিল করে তুলেছে।’
ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো নিরূপণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার ভোরের দিকে সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিকভাবে পেছনে সরে যেতে দেখে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের এলাকা নাগেকেওর বাসিন্দারা। সে সময় তাঁরা সম্ভাব্য সুনামি আশঙ্কায় দ্রুত উঁচু এলাকায় চলে যান।
পরে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-ভৌত সংস্থা (বিএমকেজি) সুনামির সতর্কতা প্রত্যাহার করে। তবে আফটারশকের কারণে ভবন ধসে পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয় সংস্থাটি।
এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ভূমিকম্পের পর কয়েক ডজন আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১।
নাগেকেওর বাসিন্দা ৫৬ বছর বয়সী ইয়োহানেস বাবো জানান, ‘খুব ভোরের দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। তখন বাজারে ছিলাম। ঝাঁকুনিটা খুবই তীব্র ছিল। ভাগ্য ভালো যে, আমরা আগেই ঘরের বাইরে ছিলাম।’
ভূমিকম্পের সঙ্গে সঙ্গেই একটি হাসপাতাল থেকে রোগীরা আতঙ্কে বাইরে বের হয়ে আসেন বলে জানান মাউমেরে শহরের বাসিন্দা লুকাস লোতার। তিনি বলেন, ‘প্রচণ্ড ঝাঁকুনির কারণে হাসপাতালে থাকা রোগীরাও বাইরে পালিয়ে যান। আমি বেশ কয়েকটি দেয়ালে ফাটল ধরতে দেখেছি।’
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো মূলত ছোট ছোট শহর ও গ্রাম দিয়ে গঠিত, যেখানে বহুতল ভবনের সংখ্যা খুবই কম।
বিএমকেজি প্রথমে সম্ভাব্য সুনামির ঢেউয়ের বিষয়ে সতর্ক করে বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। শহর ছেড়ে পায়ে হেঁটে, মোটরসাইকেলে ও গাড়িতে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। কেউ কেউ পিকআপ ভ্যানের পেছনে করেও নিরাপদ স্থানে যাচ্ছিলেন।
বিএমকেজির ভূমিকম্প ও সুনামি বিভাগের পরিচালক উইজায়ান্তো বলেন, ‘আমরা (সুনামির সতর্কতা) প্রত্যাহার করেছি। তবে সমুদ্রের পানির উচ্চতা আমরা পর্যবেক্ষণ করতে থাকব।’
প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ নামে পরিচিত তীব্র ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চলে ইন্দোনেশিয়া ও এর প্রতিবেশী দেশগুলো অবস্থিত। এ কারণে এসব এলাকায় প্রায়ই ভূমিকম্প হয়।
১৯৯২ সালে ফ্লোরেসে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে সুনামির সৃষ্টি হয় এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হন।
২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতেও ইন্দোনেশিয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি ছিল। ওই দুর্যোগে পুরো অঞ্চলে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ নিহত হন। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়াতেই মারা যান প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ।