হোম > বিশ্ব > এশিয়া

এআই নির্মিত গান নিষিদ্ধ করল অস্ট্রেলিয়ার মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: আইটিভি

অস্ট্রেলিয়ার সংগীত শিল্পে পুরোপুরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি গানকে সরকারি সংগীত চার্ট থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিল্পীদের জীবিকা ও মানবসৃষ্ট সৃজনশীলতার ওপর জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মুখে দেশটির রেকর্ডিং শিল্প এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (এআরআইএ) জানিয়েছে, আগামী সোমবার (৩১ আগস্ট) থেকে সম্পূর্ণ এআই-নির্মিত কোনো গান তাদের অফিশিয়াল চার্টে স্থান পাবে না। তবে সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় আংশিকভাবে এআই ব্যবহার করা গান নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে চার্টের জন্য যোগ্য থাকবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী—কোনো গানকে চার্টে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে সেটির কথা মানুষকে লিখতে হবে এবং প্রধান কণ্ঠ ও মূল বাদ্যযন্ত্র মানুষের পরিবেশনায় হতে হবে। একই সঙ্গে গান তৈরিতে ব্যবহৃত এআই সেবাও আইনসম্মত ও যথাযথভাবে অনুমোদিত হতে হবে। পুরোপুরি এআই-নির্মিত গান অস্ট্রেলিয়ার মর্যাদাপূর্ণ এআরআইএ অ্যাওয়ার্ডের জন্যও বিবেচিত হবে না।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে এআই-নির্মিত একটি গানের চার্ট সাফল্যও আলোচনায় এসেছে। অস্ট্রেলীয় এক প্রযোজক এআই দিয়ে কণ্ঠ ও ড্রাম তৈরি করে ম্যাডোনার জনপ্রিয় গান ‘লাইক আ প্রেয়ার’-এর একটি সংস্করণ তৈরি করেন। গানটি অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ২০ সিঙ্গেলস চার্টে টানা ১৬ সপ্তাহ ছিল এবং মে মাসে দ্বিতীয় স্থানে উঠেছিল।

এআরআইএ-র প্রধান নির্বাহী অ্যানাবেল হার্ড বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির এই সময়ে মানবসৃষ্ট শিল্প ও সৃজনশীলতাকে অগ্রাধিকার দিতেই নিয়মগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে। তাঁর মতে, অননুমোদিত এআই-নির্মিত কনটেন্টকে পুরস্কৃত করা হলে রেকর্ডিং শিল্পের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়বে।

এদিকে লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব দ্য ফোনোগ্রাফিক ইন্ডাস্ট্রি (আইএফপিআই) জুলাইয়ে এআই ব্যবহারের বিষয়ে একই ধরনের নীতিমালা প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এআই-সহায়তায় তৈরি সংগীতকে মূলত মানুষের সৃষ্টিশীলতার ফল হতে হবে এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তি হতে হবে বৈধ ও অনুমোদিত।

তবে সংগীতে এআই নিয়ে বিতর্ক এখনো তীব্র। কেউ একে শিল্পীদের জন্য হুমকি মনে করলেও, বিখ্যাত র‍্যাপার ও প্রযোজক ড. ড্রে এআইকে সৃজনশীল কাজের একটি ‘টুল’ হিসেবেই দেখেন।