আফগানিস্তানের জাবুল প্রদেশের শোকাক গ্রামের একটি গভীর কূপে পড়ে গেছে পাঁচ বছর বয়সী শিশু হায়দার। তিন দিন ধরে সেখানেই আটকা পড়ে আছ সে। উদ্ধারকর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা করছেন শিশুটিকে উদ্ধার করতে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মরক্কোর এক কূপে পড়ে যাওয়া শিশু রায়ানের মর্মান্তিক মৃত্যুর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে আফগানিস্তানে এমন ঘটনা ঘটল। রায়ানের মৃত্যু বিশ্ববাসীকে কাঁদিয়েছে, হায়দারের বেলায় এমন পরিণতি না ঘটুক। তাকে জীবিত উদ্ধার করতে জীবনপণ লড়াই করছেন আফগান উদ্ধারকর্মীরা।
তালেবান কর্মকর্তা বলেছেন, শিশুটি কান্দাহার থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে উত্তর-পূর্ব দিকের এক গ্রামের ৮০ ফুট গভীর এক কূপে পড়ে গেছে। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি কূপের মধ্যে পড়ে আছে, কিন্তু সে হাত-পা নাড়াচাড়া করছে। শিশু হায়দারের বাবা তাকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, ‘তুমি কি ঠিক আছ? আমার সঙ্গে কথা বলো। আমরা তোমাকে কূপ থেকে তুলে আনার চেষ্টা করছি।’
জবাবে ক্ষীণ কণ্ঠে হায়দার বলেছে, ‘ঠিক আছে। আমি কথা বলতেই থাকব।’
উদ্ধারকারীরা একটি দড়ির সঙ্গে ক্যামেরা ও লাইট বেঁধে সরু কূপের মধ্যে নামিয়ে ভিডিওটি ধারণ করেছেন।
প্রকৌশলীরা বলেছেন, তাঁরা বুলডোজার ব্যবহার করে কূপের পাশ থেকে পরিখা খনন করে আটকে পড়া শিশুটির কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার কূপের মধ্যে পড়ে যাওয়া শিশুটির অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে।
হায়দারের দাদা হাজি আবদুল হাদী বলেন, ‘আমাদের গ্রামটি খরাবিধ্বস্ত। এখানে পানির খুব অভাব। একটি নতুন কূপ খোঁড়ার সময় বড়দের সাহায্য করতে গিয়ে সে অন্য একটি কূপে পড়ে যায়। কূপটি খোলা ছিল। পড়ে যাওয়ার পর সে চিৎকার করছিল।’
হাজি আবদুল হাদী জানান, দড়ির সঙ্গে বালতি বেঁধে তার নাতির কাছে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সে কেক ও পানি খেয়েছে।
শিশু হায়দারের উদ্ধারকাজ এখনো চলছে।