হোম > বিশ্ব > এশিয়া

নেপালে পানির ঢল নয়, যেন ‘তরল সিমেন্ট’ ছিল—ভয়াবহ বর্ণনা বিজ্ঞানীর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সিএনএন

নেপাল-চীন সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি উপত্যকায় আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যার ঢল সাধারণ পানির স্রোতের মতো ছিল না। পানি, গুঁড়ো বরফ ও বিশাল পাথরের সঙ্গে মিশে থাকা কাদা, বালি, নুড়ি ও বোল্ডার একসঙ্গে প্রবাহিত হয়ে সৃষ্টি করেছিল অনেকটা ‘তরল সিমেন্টের’ মতো এক বিধ্বংসী স্রোত। এই কারণেই বন্যার আঘাত সাধারণ পানির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ শক্তিশালী ছিল বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাট সান অ্যান্টোনিওর প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হাতিম শরীফ।

হাতিম শরীফ বলেন, একই গতিতে প্রবাহিত হলে এই ধরনের পলি ও ধ্বংসাবশেষ মিশ্রিত স্রোত কোনো ভবনে সাধারণ পানির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ শক্তিতে আঘাত হানতে পারে। ভয়াবহ ওই ঢল গাড়ির সমান বড় বড় পাথরও ভাসিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম ছিল।

হাতিম শরীফের মতে, এমন স্রোত থেকে দৌড়ে পালানো প্রায় অসম্ভব। জীবন বাঁচাতে হলে দ্রুত উঁচু স্থানে উঠে যেতে হবে এবং অন্তত ছয় মিটার বা প্রায় ২০ ফুট ওপরে আশ্রয় নিতে হবে।

এই ধরনের বন্যা উদ্ধার অভিযানকেও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। কারণ, ধ্বংসাবশেষের স্তরে দীর্ঘ সময় পানি আটকে থাকতে পারে। ফলে একই এলাকায় মাটির অবস্থাও ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। কোনো জায়গা একজন মানুষের ওজন বহন করতে সক্ষম হলেও কয়েক কদম দূরের জায়গায় মানুষ কোমর পর্যন্ত ডুবে যেতে পারে।

এমন বন্যার পর জমে থাকা পলি ও কাদার গভীরতাও উদ্ধারকাজে বড় বাধা। অনেক জায়গায় এই স্তর কয়েক ফুট পুরু হতে পারে। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে যন্ত্রের চেয়ে হাতে এবং বিশেষ যন্ত্র দিয়ে মাটি খুঁড়ে খোঁজ চালাতে হয়, যা অত্যন্ত ধীর ও কঠিন প্রক্রিয়া।

তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো—নতুন করে বৃষ্টি হলে জমে থাকা এই বিপুল পলি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ আবারও নড়েচড়ে প্রবাহিত হতে পারে। তাই আবহাওয়া শান্ত দেখালেও নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোর মানুষকে সতর্ক থাকার এবং নদীর পাড় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক হাতিম শরীফ।