হোম > বিশ্ব > এশিয়া

বই পড়ার জন্য নাগরিকদের অর্থ দিচ্ছে একটি দেশ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

লাইব্রেরিতে সিঙ্গাপুরের এক শিক্ষার্থী। ছবি: এএফপি

মানুষকে বই পড়ায় উৎসাহিত করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মসূচির আওতায় নাগরিকদের প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়তে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। শুধু উৎসাহই নয়, নিয়মিত পড়ার জন্য দেওয়া হচ্ছে ভার্চুয়াল পুরস্কারও। এর লক্ষ্য মানুষের পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ‘ব্রেন রট’ বা অতিরিক্ত স্বল্পদৈর্ঘ্যের ডিজিটাল কনটেন্টে মনোযোগ ক্ষয়ের প্রবণতা মোকাবিলা করা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট জানায়, সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ড (এনএলবি) চলতি মাসের শুরুতে ‘ReadSG’ নামে ওই কর্মসূচি চালু করেছে। এতে অংশ নিতে আগ্রহীরা ওয়েবসাইট অথবা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিদিনের পড়ার সময় নথিভুক্ত করতে পারবেন। অন্তত ১৫ মিনিট পড়লে পাওয়া যাবে ২০টি ভার্চুয়াল কয়েন। ১ হাজার ভার্চুয়াল কয়েনের মূল্য এক সিঙ্গাপুর ডলার।

কর্মসূচির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট পড়াই একটি অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট। সিঙ্গাপুরের ব্যস্ত নগরজীবনের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, মেট্রো রেলে তিনটি স্টেশনের মধ্যবর্তী যাত্রা, বাসের জন্য অপেক্ষা কিংবা সকালের কফি খাওয়ার সময়টুকুই হতে পারে পড়ার জন্য যথেষ্ট।

ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ডের প্রধান মেলিসা ট্যাম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে পড়ার অভ্যাস মানুষের মনোযোগ, সমালোচনামূলক চিন্তা ও কল্পনাশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। তাঁর ভাষায়, স্বল্পদৈর্ঘ্যের কনটেন্ট মানুষকে দ্রুত তথ্য জানতে সাহায্য করলেও বইয়ের দীর্ঘপাঠ মনোযোগ ধরে রাখা ও গভীরভাবে চিন্তা করার সক্ষমতা বাড়ায়। তাঁরা এমন একটি পাঠকসমাজ গড়ে তুলতে চান, যারা কৌতূহলী, চিন্তাশীল, বিচক্ষণ এবং ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা বিশ্বকে বুঝতে সক্ষম।

কর্মসূচিতে পাঠাভ্যাসের ধরন বোঝাতে খাবারের নাম ব্যবহার করে কয়েকটি ‘ফ্লেভার’ও রাখা হয়েছে। যেমন ‘কুয়ে লাপিস’—স্তরযুক্ত ও গভীর মনোযোগী পাঠক; ‘কুলফি’—উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও কিছুটা বিশৃঙ্খল; আর ‘আং কু কুয়ে’—কল্পনাপ্রবণ ও স্মৃতিকাতর পাঠক।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনের গবেষক লোহ চিন ই বলেন, পড়ার বিষয়টিকে গেমের মতো করে তোলা এবং ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত করাই উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য। তাঁর মতে, পর্দায় লেখা পড়ার প্রবণতা থাকলেও গভীরভাবে পড়া ও দীর্ঘ সময় ধরে পাঠে মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাস অনেকের মধ্যেই কমে যাচ্ছে।