হোম > বিশ্ব > এশিয়া

রাশিয়ার নতুন ৫০ ফুটের ভাস্কর্য ঘিরে রুশ-জাপান উত্তেজনা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

৪ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার খাবারভস্ক শহরে স্মারকটি উন্মোচন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরতে নির্মিত নতুন একটি ৫০ ফুট উচ্চতার স্মারক নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে জাপান। স্মারকটিতে দেখা যায়, একজন সোভিয়েত সেনা তাঁর রাইফেলের বাঁট দিয়ে জাপানের প্রতীক ক্রিস্যানথেমাম বা চন্দ্রমল্লিকা চিহ্ন খোদাই করা একটি সীমান্তফলক ভেঙে ফেলছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্মারকটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ৪ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় খাবারভস্ক শহরে স্মারকটি উন্মোচন করা হয়। রাশিয়া অবশ্য টোকিওর দাবি প্রত্যাখ্যান করে এটিকে ১৯৪৫ সালে জাপানের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ঐতিহাসিক স্মৃতি হিসেবে বর্ণনা করেছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটির রাজপরিবারের প্রতীক ও জাপানের বহুল পরিচিত জাতীয় প্রতীক ক্রিস্যানথেমাম ক্রেস্ট ধ্বংসের দৃশ্য তুলে ধরে কোনো স্মারক নির্মাণ ‘অগ্রহণযোগ্য’। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগিও এটিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করে স্মারকটি সরিয়ে নিতে মস্কোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

স্মারকে দেখানো সীমান্তফলকটি শাখালিন দ্বীপে একসময় ব্যবহৃত সীমান্তচিহ্নের আদলে তৈরি। ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত বাহিনী জাপানের নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণ শাখালিন দখল করে পুরো দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জাপানের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, রাশিয়া ‘জাপানি সামরিকতন্ত্র ও তার বিরুদ্ধে অর্জিত বিজয়’ ভুলে যায়নি। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভাও জাপানকে এই বিষয়ে ‘হস্তক্ষেপ না করার’ আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্মারক রাশিয়া-জাপান সম্পর্কের অবনতির পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে মস্কোর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও তুলে ধরছে। টেম্পল ইউনিভার্সিটি জাপানের অধ্যাপক জেমস ব্রাউন মনে করেন, রাশিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জাপানের বিরুদ্ধে ১৯৪৫ সালের বিজয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর সঙ্গে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও সম্পর্কিত হতে পারে।

এর আগে আগস্টে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেন। জাপান এসব দ্বীপকে ‘নর্দার্ন টেরিটরিজ’ হিসেবে দাবি করে। পুতিনের সফরের প্রতিবাদও করেছিল দেশটি।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে জাপানের মস্কোবিরোধী নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার সাম্প্রতিক অবস্থান টোকিওকে ইউক্রেনের প্রতি আরও শক্তিশালী সমর্থন দিতে উৎসাহিত করতে পারে। তবে জ্বালানি-নির্ভরতার কারণে জাপানের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে জাপানের আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৯ শতাংশ এসেছিল রাশিয়া থেকে।

ক্রিপ্টো চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগ হাস্যকর, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অশুভ চেষ্টা’: উত্তর কোরিয়া

মেয়েদের শিক্ষানীতিতে তালেবানের পক্ষ নেওয়ায় তিন দেশে সমালোচনার মুখে জাকির নায়েক

নেপালে একাধিক সাংবাদিক আটক, বার্তাকক্ষে পুলিশের অভিযান

কাছাকাছি জলসীমায় চীনের ৫০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ, তাইওয়ানের উদ্বেগ

মাঝপথে থেমে গেল বিশ্বভ্রমণকারী প্রমোদতরি, নামিয়ে দেওয়া হলো যাত্রীদের

সানস্ক্রিন কোম্পানিগুলোর জালিয়াতি ধরা পড়ল অস্ট্রেলিয়ায়

পর্যটকদের একটি বদভ্যাসে বিরক্ত জাপান

এশিয়ায় জ্বালানি প্রবাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সিঙ্গাপুরে মাটির নিচে তেল মজুত করবে সৌদি

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে নেপাল

টাইফুন চাম্পির আঘাতে তাইওয়ানে নিহত ১, আহত ৫ শতাধিক