হোম > বিশ্ব > এশিয়া

জরাজীর্ণ জাহাজে তীরে এলেন ৫ হাজার মার্কিন নাবিক, যৌন পর্যটনের পুরোনো রূপে পাতায়া

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

রাতের রঙিন পাতায়া শহর। ছবি: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাদের অবকাশযাপনের কেন্দ্র হিসেবে যে পাতায়ায় যৌন পর্যটনের বিস্তার ঘটেছিল, থাইল্যান্ডের সেই সমুদ্রতীরবর্তী শহরেই এবার ভিড়তে যাচ্ছেন প্রায় ৫ হাজার মার্কিন নাবিক ও মেরিন সেনা। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে নোঙর করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। দীর্ঘদিন সমুদ্রে থাকা এই জাহাজটিকে জরাজীর্ণ অবস্থায় দেখা গেছে।

জাহাজটির নাবিক ও মেরিনরা টানা ২৮৬ দিন সমুদ্রে কাটানোর পর থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন। মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি টানা সমুদ্রে থাকার ক্ষেত্রে আধুনিক সময়ের একটি রেকর্ড। সাধারণত মার্কিন নৌবাহিনীর একটি মোতায়েন ৬ থেকে ৯ মাস স্থায়ী হয়। তবে যুদ্ধ বা সংঘাতের সময় তা আরও দীর্ঘ হতে পারে।

আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা এবং জাহাজে মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার অবনতি নিয়ে উদ্বেগজনক খবর প্রকাশের মধ্যেই তাদের থাইল্যান্ডে আগমন ঘটল। ধারণা করা হচ্ছে, অবকাশের সময়ে অনেকেই পাতায়ায় যাবেন।

পাতায়া শহরের উপকূলে এসে ভিড়েছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ছবি: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

পাতায়ার সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থাইল্যান্ডে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করতেন। দেশটির বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিনোদনকেন্দ্রগুলোর অন্যতম ছিল পাতায়া। শহরটি তখন ছিল শান্ত একটি মাছধরা গ্রাম। মার্কিন সেনাদের নিয়মিত আনাগোনায় সেটি দ্রুত যৌন বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।

১৯৬০ সালের আইন অনুযায়ী থাইল্যান্ডে পতিতাবৃত্তি নিষিদ্ধ ছিল। তবে ১৯৬৬ সালের ‘এন্টারটেইনমেন্ট প্লেসেস অ্যাক্ট’ যৌন ব্যবসার জন্য এক ধরনের আইনি ধূসর ক্ষেত্র তৈরি করে। ১৯৭৬ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরও পাতায়ার গড়ে ওঠা অবকাঠামো—গো-গো ক্লাব, বার ও অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্র বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে থাকে। সস্তা বিমানভাড়া ও প্যাকেজ ট্যুরের প্রসারের সঙ্গে যৌন পর্যটনও সেখানে স্থায়ী রূপ নেয়।

তবে পাতায়ার অর্থনীতি শুধু যৌন পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল নয়। চলতি শতকে শহরটি পরিবারবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে নিজেদের নতুন করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। ওয়াটার পার্ক, নং নুচ ট্রপিক্যাল বোটানিক্যাল গার্ডেন, স্যাংচুয়ারি অব ট্রুথ, গলফ কোর্স, বিলাসবহুল রিসোর্ট এবং আশপাশের দ্বীপে ভ্রমণের সুযোগ এখন পর্যটকদের বড় আকর্ষণ।

মার্কিন নৌসেনাদের আগমন স্থানীয় অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিপুলসংখ্যক নাবিকের অবকাশকালীন চলাচল নিয়ন্ত্রণে মার্কিন নৌবাহিনীর শোর প্যাট্রল সদস্যরা থাই পুলিশের সঙ্গে কাজ করবেন। মার্কিন সামরিক আইনে অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবা গ্রহণও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আধুনিক পাতায়া তাই একদিকে পারিবারিক পর্যটনের নতুন পরিচয় তৈরি করলেও, শহরের পুরোনো রাত্রিকালীন বিনোদনের চিত্র এখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। বিশেষ করে ‘ওয়াকিং স্ট্রিট’ এলাকায় রাতের পাতায়ায় সেই পুরোনো পরিচয়ের ছাপ এখনো স্পষ্ট।