হোম > বিশ্ব > এশিয়া

দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোকে কে কীভাবে দেখে—পিউ রিসার্চের জরিপ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়ার চার দেশ—বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মানুষ নিজেদের প্রতিবেশী দেশগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করে, তা নিয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করেছে বিখ্যাত গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টার। এতে দেখা গেছে, জরিপভুক্ত চার দেশের মধ্যে একমাত্র শ্রীলঙ্কাই অন্য তিন দেশ থেকে নেতিবাচক মনোভাবের চেয়ে ইতিবাচক মনোভাব বেশি অর্জন করেছে।

ভারত সম্পর্কে মনোভাব

জরিপে দেখা গেছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারতের ভাবমূর্তিতে বেশ বৈচিত্র্য বা বড় ধরনের তারতম্য রয়েছে।

শ্রীলঙ্কানদের এক বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ (৭৯%) ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। এমনকি ৬৩% শ্রীলঙ্কান ভারতকে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে মনে করেন। বিপরীতে, বাংলাদেশের মাত্র ৪২% এবং পাকিস্তানের ৭% মানুষ ভারতের বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখেন। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষ ভারতকে তাদের দেশের সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈশ্বিক ভূমিকার ক্ষেত্রেও একই ধারা দেখা গেছে। শ্রীলঙ্কার ৭০% মানুষ মোদির নেতৃত্বের ওপর আস্থা প্রকাশ করলেও বাংলাদেশের ৪২% এবং পাকিস্তানের মাত্র ৪% মানুষ তাঁর প্রতি আস্থা দেখিয়েছেন।

বাংলাদেশ সম্পর্কে মনোভাব

পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের বেশ সুখ্যাতি রয়েছে। পাকিস্তানের ৬৬% এবং শ্রীলঙ্কার ৫৬% মানুষ বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে দেখেন।

অন্যদিকে, ভারতের এক-চতুর্থাংশ (২৫%) মানুষ বাংলাদেশের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।

পাকিস্তান সম্পর্কে মনোভাব

পাকিস্তানে শ্রীলঙ্কার ৫৭% এবং বাংলাদেশের ৫৪% মানুষের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেও ভারতে তা খুবই নগণ্য—মাত্র ৮%। ভারতের নাগরিকেরা নিজেদের দেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে পাকিস্তানকেই চিহ্নিত করেছেন।

শ্রীলঙ্কা সম্পর্কে মনোভাব

অন্য তিনটি দেশেই শ্রীলঙ্কার গ্রহণযোগ্যতা বেশ ভালো। জরিপভুক্ত প্রতিটি দেশের প্রায় অর্ধেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ শ্রীলঙ্কাকে ইতিবাচকভাবে দেখেন এবং এক-তৃতীয়াংশ বা তারও কম মানুষ দেশটিকে নেতিবাচক চোখে দেখেন।

সময়ের সঙ্গে মনোভাবের পরিবর্তন (২০২৪-এর পর থেকে)

২০২৪ সালের জরিপের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

বাংলাদেশে ভারতের জনপ্রিয়তা ১৫ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে (বর্তমানে ৪২%)। পক্ষান্তরে, শ্রীলঙ্কায় ভারতের জনপ্রিয়তা ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের জনপ্রিয়তা ৯ শতাংশ বাড়লেও ভারতে তা ১০ পয়েন্ট কমেছে।

শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে পাকিস্তানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। শ্রীলঙ্কানদের ৫৭% (২০২৪ সালে ছিল ৪৪%) এবং বাংলাদেশিদের ৫৪% (২০২৪ সালে ছিল ৪০%) এখন পাকিস্তানের প্রতি ইতিবাচক ধারণা রাখেন। তবে ভারতে চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো, সেখানে পাকিস্তানের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব সর্বনিম্ন পর্যায়গুলোর একটিতে নেমে এসেছে।

ধর্ম, বয়স ও শিক্ষার প্রভাব

ধর্মীয় বিভাজন: ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে পাকিস্তান (২১%) ও বাংলাদেশের (৪১%) প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ভারতীয় হিন্দুদের (যথাক্রমে ৬% ও ২৩%) চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে এতদসত্ত্বেও দুই-তৃতীয়াংশ ভারতীয় মুসলিম পাকিস্তানের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। অপরদিকে, বৌদ্ধসংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রীলঙ্কায় অন্য ধর্মাবলম্বীদের চেয়ে হিন্দুরা মোদির প্রতি বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখেন।

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে যাদের অন্তত মাধ্যমিক শিক্ষা রয়েছে, তারা কম শিক্ষিতদের তুলনায় শ্রীলঙ্কা সম্পর্কে বেশি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। একইভাবে, ৩৫ বছরের কম বয়সী তরুণ শ্রীলঙ্কান ও ভারতীয়রা বয়স্কদের তুলনায় তাঁদের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি বেশি ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করেন।