ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিল ওয়াশিংটন। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন চার্লস উইটকফ জানিয়েছেন, ইরানকে আগামী ১০ বছর তাদের প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি বা ফুয়েলের মূল্য পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরান সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
সম্প্রতি তিন দিনব্যাপী একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার বিস্তারিত তুলে ধরে উইটকফ জানান, আলোচনা চলাকালীন ইরানি পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, তাদের কাছে থাকা সমস্ত পারমাণবিক জ্বালানি সমৃদ্ধ করার ‘অধিকার’ তাদের রয়েছে।
ইটকফের ভাষ্যমতে, ইরানের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন পক্ষ কড়া জবাব দেয়। তিনি বলেন, ‘আমরা সরাসরি জানিয়েছি, প্রেসিডেন্ট মনে করেন, আপনাদের থামানোর অধিকার আমাদেরও রয়েছে।’
আলোচনার মোড় ঘোরার কথা উল্লেখ করে মার্কিন এই বিশেষ দূত বলেন, ‘তারা (ইরান) শুরুতেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার নিয়ে অনড় অবস্থানে ছিল। তখনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে পরিস্থিতি বেশ জটিল হতে চলেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে, তারা আগামী ১০ বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে এবং এর বিনিময়ে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানির জন্য সব ধরনের আর্থিক সহায়তা দেবে ওয়াশিংটন। কিন্তু তেহরান এই প্রস্তাবটিকে সরাসরি নাকচ করে দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, উইটকফের এই বক্তব্যের মাধ্যমে পরিষ্কার যে পারমাণবিক জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ নিয়ে ইরান কোনো ধরনের আপস করতে নারাজ। অবশ্য এ কথা ইরানের পক্ষ থেকেও বরাবর বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী ওমানের প্রতিনিধি জানিয়েছিলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের দিকে যাবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সমৃদ্ধকরণের অধিকার তাদের রয়েছে বলে দাবি করে তেহরান।