হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছিল শত্রুরা—যেভাবে উদ্ধার হলেন নিখোঁজ মার্কিন ক্রু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

এফ-১৫ ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান। ছবি: এএফপি

ইরানের আকাশে ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে অবশেষে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের ইতিহাসের অন্যতম ‘দুঃসাহসিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান’ পরিচালনা করে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। পরে আরেক পোস্টে তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া ওই কর্মকর্তা গুরুতর আহত ছিলেন, তবে এখন তিনি নিরাপদে আছেন।

ওই যুদ্ধবিমানে দুজন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাঁরা দুজনেই বিমান থেকে ইজেক্ট করেন। এর মধ্যে একজনকে আগেই উদ্ধার করা হয়েছিল। অন্যজন নিখোঁজ ছিলেন এবং তাঁকে ঘিরেই শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একধরনের প্রতিযোগিতা—কে আগে তাঁকে খুঁজে পায়।

ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তাঁদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমেই যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়।

কীভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়

উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত এখনো পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি এটিকে দক্ষিণ ইরানে পরিচালিত একটি ‘বৃহৎ’ কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (সিএসএআর) মিশন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই উদ্ধার অভিযানে মনোযোগ দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে চলমান অন্য বেশ কিছু সামরিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। তিনি বিশেষ অভিযানের জন্য কয়েক ডজন বিশেষ বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দেন।

কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (সিএসএআর) মিশনকে সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে জটিল ও সময়সাপেক্ষ অভিযানের মধ্যে ধরা হয়। সাধারণত এসব অভিযানে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়, যা শত্রু এলাকায় নিচ দিয়ে উড়ে যায়। পাশাপাশি অন্যান্য যুদ্ধবিমান আকাশে টহল ও প্রতিরক্ষামূলক হামলা চালিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

নিখোঁজ ক্রু সদস্যের পরিস্থিতি

ট্রাম্প জানান, নিখোঁজ ওই ক্রু সদস্য (একজন কর্নেল) ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শত্রুপক্ষের নজর এড়িয়ে অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন, ওই কর্মকর্তা ‘শত্রুপক্ষের পেছনে, ইরানের বিপজ্জনক পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন এবং শত্রুরা প্রায় তাঁর কাছাকাছি চলে আসছিল।’

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, তিনি ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় একা পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন। তাঁর কাছে একটি হ্যান্ডগান ছিল। তিনি পাহাড়ের একটি ফাঁকে আশ্রয় নেন এবং প্রায় ৭ হাজার ফুট (২ হাজার মিটার) উচ্চতার একটি রিজ লাইনে (শৈলরেখা) ওঠেন।

তাঁর অবস্থান ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। উদ্ধার শেষে তাঁকে চিকিৎসার জন্য কুয়েতে নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে।

সিআইএর ভূমিকা ও বিভ্রান্তিমূলক কৌশল

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্ধার অভিযানে সিআইএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা ক্রু সদস্যের অবস্থান শনাক্ত করে সে তথ্য পেন্টাগনের কাছে সরবরাহ করে।

একই সঙ্গে ইরানের ভেতরে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোর একটি কৌশলও গ্রহণ করা হয়। উদ্ধার অভিযান চলাকালে প্রচার করা হয় যে, ওই ক্রু সদস্যকে ইতিমধ্যে খুঁজে পাওয়া গেছে এবং তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ট্রাম্প দাবি করেন, এই অভিযানে কয়েক ডজন বিমান ব্যবহার করা হলেও কোনো মার্কিন সদস্য নিহত বা আহত হননি।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজতে গিয়ে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

এর আগে ইরান ঘোষণা দিয়েছিল, নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে জীবিত ধরতে পারলে পুরস্কার দেওয়া হবে।

কোথায় ও কখন ভূপাতিত হয় বিমান

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) প্রথম ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট স্থান নিশ্চিত না হলেও কোহগিলুয়েহ ও বয়র-আহমদ এবং খুজেস্তান প্রদেশের নাম উল্লেখ করা হয়।

বিমানে থাকা দুই ক্রুর মধ্যে পাইলটকে আগেই উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই অভিযানে একটি এ-১০ ওয়ার্টহগ বিমানও যুক্ত ছিল বলে জানা যায়, যা উপসাগরীয় অঞ্চলে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল। পাইলট ইজেক্ট করে বেঁচে যান।

এ ছাড়া একটি হেলিকপ্টার, যা উদ্ধার করা পাইলটকে বহন করছিল, সেটিও ছোট অস্ত্রের গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এতে কিছু ক্রু সদস্য আহত হন, তবে হেলিকপ্টারটি নিরাপদে অবতরণ করে।

ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, তাদের নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এই দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।

এফ-১৫ যুদ্ধবিমান

এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান মূলত আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমিতে হামলার জন্য ব্যবহৃত হয়। ইরানে এগুলো সম্ভবত প্রতিরক্ষামূলক মিশনে ব্যবহৃত হচ্ছিল, যেমন ইরানের ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা।

এ ধরনের বিমানে একজন পাইলট ও একজন অস্ত্র ব্যবস্থা কর্মকর্তা বা ওয়েপন সিস্টেম অফিসার থাকেন। পেছনের আসনে থাকা এই কর্মকর্তা (যাকে ‘উইজ্জো’ বলা হয়) টার্গেট নির্বাচন এবং অস্ত্র ব্যবহারের দায়িত্ব পালন করেন।

বিমানটি কীভাবে ভূপাতিত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র (এসএএম) দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে থাকতে পারে।

ট্রাম্পের মুখে আল্লাহর নাম, তবে ক্ষুব্ধ কেন মুসলিমরা

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বস্ব নিয়ে প্রস্তুত ইরানের জনগণ—পররাষ্ট্র মুখপাত্র

হরমুজ প্রণালির ‘সুরক্ষায়’ মার্কিন জোটে যোগ দিতে প্রস্তুত আরব আমিরাত

প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে রাজনীতি ও মনমতো ব্যাখ্যায় চলছে পশ্চিম তীরের জমি দখল

ট্রাম্পের বেপরোয়া পদক্ষেপে পুরো অঞ্চল পুড়বে: গালিবাফ

এপস্টেইন নথিতে নাম থাকার ব্যাখ্যা দিলেন জিজি হাদিদ

ইরানের বিক্ষোভকারীদের অস্ত্র পাঠিয়েছিলাম, কুর্দিরা মেরে দিয়েছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা কমান্ডার নিহত

সোমবার ইরানের শেষ সুযোগ, মঙ্গলবার পাওয়ার প্ল্যান্ট গুঁড়িয়ে দেবেন ট্রাম্প

সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র কোথায়, ইরানের শক্তি কতটা