হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি তথা অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই ঘোষণা দেন। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে বাড়তে থাকা জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের এটি সর্বশেষ পদক্ষেপ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিলের খবরে বলা হয়েছে, বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন—এই সীমিত পরিসরে সাজানো’ পদক্ষেপটি ‘রুশ সরকারকে উল্লেখযোগ্য কোনো আর্থিক সুবিধা দেবে না।’

ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, এই ছাড় আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

বেসেন্ট আরও লিখেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদী ইরানি শাসনের সৃষ্ট হুমকি ও অস্থিরতা মোকাবিলা করার পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং জ্বালানির দাম কম রাখতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিচ্ছেন।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জ্বালানিবান্ধব নীতি মার্কিন তেল ও গ্যাস উৎপাদনকে রেকর্ড মাত্রায় নিয়ে গেছে, যা কঠোর পরিশ্রমী আমেরিকানদের জন্য জ্বালানি খরচ কমাতে সাহায্য করছে। তেলের দামের এই সাময়িক বৃদ্ধি একটি স্বল্পমেয়াদি বিঘ্ন মাত্র, যা দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের জাতি ও অর্থনীতির জন্য বিশাল সুফল বয়ে আনবে।’

এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে অন্যান্য বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর এল। যার ফলে ভারত ৩০ দিনের জন্য রুশ তেল কেনার সুযোগ পেয়েছিল। গত বুধবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত থেকে তেল ব্যবহার করবেন এবং কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়বেন।

সিনেট কমিটি অন ব্যাংকিং, হাউজিং অ্যান্ড আরবান অ্যাফেয়ার্সের একদল ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর এই সপ্তাহের শুরুতে কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর টিম স্কটকে (রিপাবলিকান-সাউথ ক্যারোলাইনা) একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তাঁরা রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের জবাব দাবি করেছেন। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনসহ (ডেমোক্র্যাট-ম্যাসাচুসেটস) কমিটির সংখ্যালঘু সদস্যরা মার্চের শেষের দিকে বেসেন্টের সঙ্গে একটি সংসদীয় শুনানির অনুরোধ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকেই জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির তীরে অবস্থিত, যা তেল পরিবহনের একটি প্রধান পথ। বৃহস্পতিবার ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এই প্রণালি বন্ধ থাকবে।

ব্যাপক হামলার পরও স্থিতিশীল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা: ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন

পেজেশকিয়ানকে প্রথম ফোন, জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার অনুরোধ মোদির

খামেনিপুত্র মোজতবা কি বেঁচে আছেন, ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন রহস্য

ইরাকে বিধ্বস্ত মার্কিন জ্বালানিবাহী কেসি-১৩৫–এর বৈশিষ্ট্য কী, যুদ্ধক্ষেত্রে এর গুরুত্ব কতটা

মার্কিন রণতরি ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’ ক্ষতিগ্রস্ত—দাবি ইরানের, যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকার

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জ্বালানিবাহী বিমান ভূপাতিত

ইরান আর আগের মতো নেই: নেতানিয়াহু

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ: তেল সংকটে হিসাবি এশিয়া

দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিতে উপসাগরীয় দেশের অর্থনীতি

ইরানকে সাহায্য করছে পুতিনের ‘গোপন হাত’—ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সতর্কতা