যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ১৯৯৪ সালে নিখোঁজ হওয়া এক কিশোরীকে ৩২ বছর পর জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই ‘কোল্ড কেস’ সমাধান হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সংশ্লিষ্ট পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়া ওই কিশোরীর নাম ক্রিস্টিনা মেরি প্ল্যাঁতে। নিখোঁজ হওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। বর্তমানে তাঁর বয়স ৪৪ বছর। চলতি সপ্তাহে তাঁকে শনাক্ত ও জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানায়, ১৯৯৪ সালের ১৫ মে তিনি পেসন-স্টার ভ্যালি এলাকায় অবস্থিত নিজ বাড়ি থেকে কাছাকাছি একটি ঘোড়ার আস্তাবলে যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়েছিলেন। এরপর থেকেই তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি তখন ঝুঁকিপূর্ণ ও সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে নিখোঁজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
নিখোঁজের পরপরই ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয়দের অংশগ্রহণে দীর্ঘ অনুসন্ধান চললেও কোনো কার্যকর তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মামলাটি অমীমাংসিত অবস্থায় থেকে যায়।
তবে মামলাটি কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করা হয়নি। পরবর্তীতে এটি গিলা কাউন্টি শেরিফ দপ্তরের কোল্ড কেস ইউনিটে হস্তান্তর করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন তদন্ত পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে সম্প্রতি মামলাটি পুনরায় পর্যালোচনা শুরু হয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, জাতীয় নিখোঁজ শিশুদের ডেটাবেইসে প্ল্যাঁতের তথ্য সব সময় সংরক্ষিত ছিল। নতুন করে তথ্য আহ্বান এবং তাঁর বয়স ও শারীরিক বর্ণনা হালনাগাদ করে প্রচার চালানোর পর তদন্তে অগ্রগতি আসে।
শেষ পর্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে নতুন সূত্র পাওয়া যায়, যা এই বড় অগ্রগতির পথ খুলে দেয়। বুধবার এক বিবৃতিতে শেরিফ অফিস জানায়, ‘৩২ বছর পর ক্রিস্টিনা মেরি প্ল্যাঁতেকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে এবং তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।’
তবে তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও বর্তমান জীবনের স্বার্থে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, এর এক মাস আগেও নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২৫ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া এক নারীকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়। এসব ঘটনা কোল্ড কেস তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।