মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, তিনি ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার আজ বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনা করেছেন। পরে তিনি ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। উইটকফ জানিয়েছেন, রাশিয়াই এই বৈঠকের অনুরোধ করেছে। রয়টার্সকে একটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ফাঁকে উইটকফ ও পুতিনের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভের মধ্যে বৈঠক প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে নিজের রুশ সমকক্ষের সঙ্গে বৈঠকের এক দিন পর সাংবাদিকদের উইটকফ বলেন, ‘আমরা শান্তি নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা করেছি, ইউক্রেন ও রাশিয়া নিয়ে কথা হবে। আমি আশাবাদী...আমাদের শান্তি প্রয়োজন।’
পরে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কি ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা করছি।’ তবে এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানাননি তিনি। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস ক্রেমলিনের বরাতে জানিয়েছে—উইটকফ ও পুতিনের মধ্যে মস্কোয় বৈঠক হবে।
এর আগে উইটকফ মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে বলেন, এই বৈঠকের অনুরোধ রাশিয়ার পক্ষ থেকেই এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি তাদের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।’ ক্রেমলিন গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, ইউক্রেন ইস্যুতে শান্তি আলোচনার জন্য তারা উইটকফ ও কুশনারকে মস্কোতে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে তখন কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি।
পুতিন কি ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস বা শান্তি পরিষদে যোগ দিচ্ছেন—এমন প্রশ্নে উইটকফ সিএনবিসিকে বলেন, ‘আমি মনে করি, হ্যাঁ।’ তিনি আরও বলেন, পুতিনকে এতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এর আগে ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ গত সপ্তাহে বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের সমাধান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলতি সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে অব্যাহত থাকবে।
ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র আলাদাভাবে রাশিয়া, কিয়েভ ও ইউরোপের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা করেছে। তবে ট্রাম্পের বারবার দেওয়া প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালায়। এর মধ্য দিয়ে স্নায়ুযুদ্ধের পর মস্কো ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাতের সূচনা হয়।