পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কয়েক দিন ধরে সীমান্তে সংঘাত চলছে। চলমান সংঘর্ষে অন্তত আট হাজার আফগানি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এসব কথা জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেছেন, ‘বোমাবর্ষণ ও হামলার কারণে আমাদের ৮ হাজার ৪০০টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তারা গ্রাম ও বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।’
গত সোমবার ফিতরাত বলেছিলেন, কুনার প্রদেশে হামলায় তিন শিশু নিহত হয়েছে। তালেবান সরকারের হিসাবে, গত বৃহস্পতিবার থেকে অন্তত ৩৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। পাকিস্তান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
গত সপ্তাহে আফগান সীমান্তে ‘সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে’ হামলা চালায় পাকিস্তান। এর জবাবে গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় পাকিস্তানে হামলা শুরু করে আফগানিস্তান। সেদিন দিবাগত রাত ২টায় পাল্টা হামলা শুরু করে পাকিস্তান। পরদিন আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।
গত কয়েক দিনে পাকিস্তানি হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল সাবেক মার্কিন বিমানঘাঁটি বাগরাম, রাজধানী কাবুল এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহার।
ইসলামাবাদের দাবি, সীমান্তে তালেবান সরকারের ‘আগ্রাসনের’ জবাবে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে’ আঘাত হানার অধিকার রয়েছে তাদের। এদিকে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের দাবিতে ফারাক রয়েছে। চলমান যুদ্ধে আফগানিস্তানের দাবি, অন্তত তাদের ২৫ সেনা নিহত হয়েছে। আর তাদের সেনারা ১৫০ জনের বেশি পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবি, তাদের হামলায় ৪৩০ জনের বেশি আফগান সেনা নিহত এবং ৬৩০ জনের বেশি আহত হয়েছে। তবে কোনো পক্ষের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।