যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। ফিলিস্তিনিরা রোজার প্রথম দিনের সাহরির জন্য ভোরের আগে একটি জায়গায় সমবেত হয়েছেন। রোগ–শোক এবং খাবারের অপ্রতুলতা থাকলেও তাদের রোজা নিয়ে আগ্রহ–উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। কয়েকটি আরব ও ইসলামি দেশ রমজান শুরু করেছে। অন্য কিছু দেশ এক দিন পর থেকে রোজা শুরু করবে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার মানুষ বুধবার থেকে পবিত্র এই মুসলিম মাস পালন শুরু করেছেন। কিন্তু তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর থাকলেও ইসরায়েলের চলমান গণহত্যামূলক যুদ্ধের মধ্যে তারা খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে ভুগছেন।
যুদ্ধ শুরুর আগে, দুই বছরেরও বেশি সময় আগে, রমজানে অনেক পরিবারের খাবারের টেবিল ভরা থাকত। এখন তারা রোজার দিন কীভাবে কাটাবে, তা ঠিক করতে হচ্ছে ত্রাণ বিতরণের সময়সূচি দেখে। ইসরায়েল গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সরবরাহ ঢুকতে দিচ্ছে না। ফলে অনেকেই স্যুপ কিচেন বা লঙ্গরখানার ওপর নির্ভর করছেন।
অক্টোবরে শুরুর দিকে কার্যকর হওয়া ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন অন্তত ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই সংখ্যা অনেক কম। এর পাশাপাশি ইসরায়েলের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ শুরুর পরও প্রায় প্রতিদিনই যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ৬০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এদিকে, দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে হাজার হাজার মুসল্লি আল-আকসা মসজিদের ছাদ ঘেরা নামাজের হল ও খোলা প্রাঙ্গণ পূর্ণ করে তারাবির নামাজ আদায় করেছেন। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, নামাজ চলাকালে ইসরায়েলি পুলিশ মসজিদ প্রাঙ্গণের ভেতরে অবস্থান করছে এবং মুসল্লিদের ভেতর দিয়ে চলাফেরা করছে। এই নামাজ হয়েছে সেখানে বাড়তি উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। বিশেষ করে পুরোনো শহর ও আল-আকসা প্রাঙ্গণ ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
জেরুজালেম গভর্নরেটের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ২৫০ টির বেশি আদেশ জারি করা হয়েছে। এসব আদেশের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের আল-আকসায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল দখলকৃত পশ্চিম তীরেও অভিযান জোরদার করেছে। এর মধ্যে পূর্ব জেরুজালেমও রয়েছে। একই সময়ে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষ ও তাদের সম্পত্তির ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলাও তীব্রভাবে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন নিয়ে এসব বসতি স্থাপনকারী দণ্ডমুক্তির সুযোগে তাণ্ডব চালাচ্ছে।