জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে অনেকের নেতিবাচক ধারণা থাকলেও আয়ের ক্ষেত্রে তারা আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। গত বছর যুক্তরাজ্যে ৩০ বছরের কম বয়সী রেকর্ডসংখ্যক করদাতা ১০ লাখ পাউন্ডের (প্রায় ১৬ কোটি টাকা) বেশি আয় করেছেন, যাদের এক হাজারজনই জেন-জি। এইচএমআরসি বা ব্রিটিশ রাজস্ব বিভাগের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
অ্যাকাউন্টিং ফার্ম লুবক ফাইন এ নিয়ে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। সেই পরিসংখ্যানের বরাতে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান বলছে, তরুণদের এই বিশাল আয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে ইনস্টাগ্রাম, টিকটক এবং ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো। ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং খাতে বিনিয়োগ বাড়ায় অনেক তরুণ বিপুল অর্থ আয় করছেন। এ ছাড়া খেলাধুলা, সংগীত এবং মিডিয়া তারকাদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি ও আর্থিক সেবা খাতে উচ্চ বেতনও এই রেকর্ডে অবদান রেখেছে।
গড় আয় ও শীর্ষ তারকাদের অবস্থান
লুবক ফাইনের তথ্য অনুযায়ী, এই এক হাজার তরুণ গত বছর মোট তিন বিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি আয় করেছেন। অর্থাৎ প্রত্যেকের গড় আয় ছিল প্রায় তিন মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা)।
ম্যানচেস্টার সিটির ২৫ বছর বয়সী ফুটবলার আর্লিং হলান্ড সপ্তাহে ৫ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড আয় করেন। অর্থাৎ বছরে তাঁর প্রায় ২৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন পাউন্ড।
২৬ বছর বয়সী সাবেক লাভ আইল্যান্ড তারকা ও ইনফ্লুয়েন্সার মলি-মে হেগ তাঁর প্রতিটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের (প্রমোশনাল) জন্য ৬০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন (প্রায় এক কোটি টাকা)।
২৪ বছর বয়সী মেকআপ ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাবি রবার্টসের টিকটকে ১ কোটি ৫০ লাখ অনুসারী রয়েছে এবং তিনি প্রতিটি পোস্ট থেকে ১৪ হাজার পাউন্ড আয় করেন।
বড়দের চেয়ে এগিয়ে তরুণেরা
যুক্তরাজ্যে বর্তমানে মোট ৩১ হাজার করদাতা বছরে এক মিলিয়ন পাউন্ড বা তার বেশি আয় করেন। গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ১ শতাংশ। কিন্তু ৩০ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ১১ শতাংশ। অর্থাৎ বয়স্কদের তুলনায় তরুণদের আয়ের হার অনেক দ্রুত বাড়ছে। মহামারির সময়ের তুলনায় বর্তমানে এক মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি আয় করা তরুণের সংখ্যা ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে তরুণ বয়সে এত বিপুল আয় করলেই জীবনে স্থায়ীভাবে ধনী হওয়া যায় না বলে সতর্ক করেছেন লুবক ফাইনের স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট বিভাগের প্রধান রাসেল রিচ। তিনি বলেন, ‘ফুটবলার বা বক্সাররা অনেক সময় অবসরের পর আয়ের তুলনায় বেশি খরচ করে ফেলেন। শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যেও সঞ্চয় বা বিনিয়োগের প্রবণতা কম দেখা যায়।’
পিছিয়ে নেই প্রবীণ ইনফ্লুয়েন্সাররাও
কেবল তরুণেরাই নয়, ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রবীণরাও এখন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয় করছেন। গত কয়েক বছরে এই বয়সীদের মধ্যে ইউটিউব ও টিকটক ব্যবহারের হার বেড়েছে। বার্কশায়ারের ৫৩ বছর বয়সী পার্সোনাল ট্রেইনার ক্যারোলিন ইডিয়েন্স (২৪ লাখ অনুসারী) এবং ৬২ বছর বয়সী ভ্যালেরি ম্যাকের মতো প্রবীণরা এখন ডিজিটাল দুনিয়ায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন এবং আয়ও করছেন।