হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

যুদ্ধের ভিডিও পোস্ট: আমিরাতে ভারতীয়সহ ৩৫ প্রবাসীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ, আছে বাংলাদেশিও

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইরানের হামলার পর ধোঁয়া উড়তে দেখা যায় আমিরাতের একটি শহর থেকে। ছবি: এএফপি

গত মাসের শেষ দিকে ইরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শুরু হয় যুদ্ধ। এই যুদ্ধের আবহের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বা বানোয়াট কন্টেন্ট সংবলিত ভিডিও পোস্ট করার দায়ে ১৯ জন ভারতীয়সহ ৩৫ জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই তালিকায় আছে এক বাংলাদেশিও।

সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্তরা চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত কারসাজি করা ফুটেজ এবং বর্ণনা প্রচারের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছে। তাদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

এই পদক্ষেপ দুই দফায় নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ তালিকায় ১৭ জন ভারতীয়সহ বিভিন্ন দেশের মোট ২৫ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের বিভিন্ন ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার গ্রেপ্তার করা হয় ১০ জনকে। সেই তালিকা থেকে এবারের তালিকা আলাদা। আগের তালিকায় ২ জন ভারতীয় ছিল।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল ড. হামাদ সাইফ আল শামসি এক বিবৃতিতে বলেছেন, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে এবং সাধারণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো বানোয়াট তথ্য ও কৃত্রিম কন্টেন্ট মোকাবিলায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে কঠোর নজরদারির পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আমিরাতের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়ামের প্রতিবেদক অনুসারে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তদন্ত এবং ইলেকট্রনিক মনিটরিংয়ে দেখা গেছে যে বিবাদীরা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অপরাধ করেছে। এর মধ্যে ছিল বর্তমান ঘটনার সাথে সম্পর্কিত আসল ক্লিপ প্রকাশ করা, এআই ব্যবহার করে বানোয়াট ক্লিপ তৈরি করা এবং সামরিক আগ্রাসন চালানো একটি রাষ্ট্রের প্রশংসা করা ও তার নেতৃত্ব ও সামরিক কর্মকাণ্ডের গুণগান গাওয়া।’

১০ জন অভিযুক্তের প্রথম দলে রয়েছেন পাঁচজন ভারতীয়, একজন পাকিস্তানি, একজন নেপালি, দুইজন ফিলিপিনো এবং একজন মিসরীয়। তারা দেশটির আকাশসীমায় পিও চলাচল ও তা প্রতিহত করার বা এর প্রভাবের আসল ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ ও প্রচার করেছিলেন। তারা এই ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণকারী মানুষের জটলাও ভিডিও করেছিলেন এবং তাতে এমন মন্তব্য ও সাউন্ড এফেক্ট যুক্ত করেছিলেন যা সক্রিয় আগ্রাসনের ইঙ্গিত দেয়, যার ফলে জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এ ধরনের ফুটেজ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে উন্মুক্ত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে এবং শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্তিকর বর্ণনা প্রচারের সুযোগ করে দিয়েছে।’

সাত সদস্যের দ্বিতীয় দলে পাঁচ ভারতীয় এবং নেপাল ও বাংলাদেশের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। তারা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা বানোয়াট দৃশ্য বা দেশের বাইরের ঘটনার ফুটেজ পুনরায় প্রচার করে দাবি করেছিলেন যে সেগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভেতরে ঘটেছে। এই ক্লিপগুলোতে বিস্ফোরণ এবং ক্ষেপণাস্ত্রের কৃত্রিম দৃশ্য ছিল এবং প্রায়ই মিথ্যা দাবিগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করতে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতে জাতীয় পতাকা বা নির্দিষ্ট তারিখ ব্যবহার করা হয়েছিল।

ছয় সদস্যের তৃতীয় দলে পাঁচ ভারতীয় এবং এক পাকিস্তানি রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ‘একটি শত্রু রাষ্ট্রকে (ইরান) এবং তার রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে মহিমান্বিত করা এবং তাদের আঞ্চলিক সামরিক আগ্রাসনকে সাফল্য হিসেবে প্রচার করার’ অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এটি ওই রাষ্ট্রের নেতাদের প্রশংসা করা এবং প্রোপাগান্ডা প্রচারের সাথে জড়িত যা শত্রুপক্ষের মিডিয়ার কাজে লাগে এবং জাতীয় স্বার্থের ক্ষতি করে।

এ ছাড়াও অন্য দুই ভারতীয় নাগরিকও একই ধরনের অপরাধের জন্য অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছেন। শনিবার ওয়ামের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১০ জন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাবলিক প্রসিকিউশন তাদের রিমান্ডের নির্দেশ দিয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল আল শামসি বলেছেন, এই ব্যক্তিরা এআই-জেনারেটেড বানোয়াট ফুটেজ প্রচার করেছেন যা মিথ্যাভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ, বিশিষ্ট স্থাপনায় হামলা বা ধোঁয়া ওঠা বড় আগুনের ইঙ্গিত দেয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই ধরনের কাজ আইনের অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধ, যার সাজা কমপক্ষে ১ বছরের কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে ১ লাখ দিরহাম জরিমানা। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করার পাশাপাশি জনগণকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে এই ঘটনাগুলোকে কাজে লাগানো হয়েছে।’

শামসি আরও যোগ করেন, ‘এই ঘটনাগুলোর মধ্যে ভিডিওতে শিশুদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে নিরাপত্তার হুমকির মিথ্যা ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ফুটেজে দেশের ভেতরের সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করা হয়েছে বা বিদেশের ঘটনাকে আমিরাতের বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য জনমতকে বিভ্রান্ত করা এবং উদ্বেগ ছড়ানো।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে গতকাল রোববার সকালে নতুন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর ঠিক একদিন আগে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি প্রধান বন্দর খালি করার আহ্বান জানিয়েছিল এবং প্রথমবারের মতো কোনো প্রতিবেশী দেশের অ-মার্কিন সম্পদ লক্ষ্য করে হুমকি দিয়েছিল। তেহরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান টার্মিনাল খারাগ দ্বীপে হামলা চালানোর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘বন্দর, ডক এবং গোপন আস্তানা’ ব্যবহার করছে।

ইরান যুদ্ধে কুর্দিদের নাক না গলাতে ইরাক সরকারের হুঁশিয়ারি

ইসরায়েলে শব্দের ১২ গুণ গতির ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ নিক্ষেপ ইরানের, বৈশিষ্ট্য কী

‘বিজয় ঘোষণার সময় হয়নি’, ইরানিরা কেন রাস্তায় নামছে না—কারণ জানেন ট্রাম্প

মে মাসেই বহুজাতিক সেনা মোতায়েন করবে ইসরায়েল

ট্রাম্পের সাহস থাকলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাঠাক: ইরানের চ্যালেঞ্জ

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না জাপান–অস্ট্রেলিয়া, ন্যাটোর দ্বারস্থ ট্রাম্প

ভারতে মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১০ রোগীর মৃত্যু, দগ্ধ ১১

ইরান যুদ্ধে ১৫ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, হোয়াইট হাউসে উদ্বেগ

আফগান সামরিক স্থাপনায় পাকিস্তানের হামলা

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে ট্রাম্পের আহ্বানে এখনো সাড়া দেয়নি কোনো দেশ