হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কার, ট্রাম্প নাকি কংগ্রেসের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ওভাল অফিসে একটি বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান হাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এপির সৌজন্যে

ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করায় বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিদেশের মাটিতে এই সমালোচনার পাশাপাশি ঘরের মাঠেও তাঁকে আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবিরের আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে এই যুদ্ধ শুরু করে নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

এ ব্যাপারে সংবিধান কী বলে, চলুন জেনে নেওয়া যাক—

মার্কিন সংবিধানে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের হাতই বেশি শক্তিশালী রাখা হয়েছে।

মার্কিন সংবিধানের আর্টিকেল-১ অনুযায়ী কেবল কংগ্রেসের হাতেই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ করার একক ক্ষমতা রয়েছে। এ ছাড়া যুদ্ধের তহবিল অনুমোদন ও সেনাবাহিনী বা নৌবাহিনী গঠনের নিয়ন্ত্রণও আইনপ্রণেতাদের হাতে।

আর্টিকেল-২ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সামরিক বাহিনীর ‘কমান্ডার ইন চিফ’ বা প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধ কীভাবে লড়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর।

তবে একটি বিশেষ ক্ষেত্র রয়েছে—যদি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো আকস্মিক হামলা হয় বা আসন্ন কোনো বড় হুমকির প্রমাণ থাকে, তবে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই ‘আত্মরক্ষা’র খাতিরে তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন।

ট্রাম্পের যুক্তি ও বিরোধীদের পাল্টা দাবি

ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা দাবি করেছে, ইরানের পক্ষ থেকে একটি ‘আসন্ন হুমকি’ মোকাবিলায় তারা আত্মরক্ষার্থে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন ইরানজুড়ে হামলা শুরু হয়, ট্রাম্প সেটিকে ‘যুদ্ধ’ না বলে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে একটি বিশেষ অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, ট্রাম্প যুদ্ধের লক্ষ্য বা কারণ স্পষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের ডিরেক্টর জো কেন্ট এই যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর মতে, ‘ইরান আমাদের দেশের জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না এবং এটা স্পষ্ট যে, আমরা ইসরায়েলি চাপের কারণে এই যুদ্ধ শুরু করেছি।’

আইনি সীমাবদ্ধতা ও ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন

১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন’ পাস হয়েছিল, যাতে কোনো প্রেসিডেন্ট এককভাবে যুদ্ধ টেনে নিতে না পারেন। এই নিয়ম অনুযায়ী—সামরিক পদক্ষেপ শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই কংগ্রেসকে অবহিত করতে হবে। কংগ্রেসের অনুমোদন না থাকলে ৬০ দিনের বেশি সেনা মোতায়েন রাখা যাবে না।

তবে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা কি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে। এ ছাড়া যুদ্ধে বেসামরিক অবকাঠামো—যেমন দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কেশম দ্বীপের পানি শোধনাগারে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইন এবং জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। মিনাবের ওই স্কুলে মার্কিন টমাহক মিসাইলের আঘাতে ১৭৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ছিল শিশু।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করছে পোল্যান্ড

৬১ বছর পর কঙ্গোর প্রথম প্রধানমন্ত্রী লুমুম্বা হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু

লারিজানি হত্যার চড়া মূল্য দিতে হবে: মোজতবা খামেনি

রাশিয়ায় বসেই পুতিনকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা ক্রেমলিনপন্থী আইনজীবীর

চলমান সংঘাতে যেসব শীর্ষ নেতাকে হারাল ইরান

এবার গোয়েন্দামন্ত্রী নিহতের খবর নিশ্চিত করল ইরান

ইরানে এক ডজনের বেশি ব্যয়বহুল রিপার ড্রোন হারাল যুক্তরাষ্ট্র

ইরান যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহেও লোহিতসাগরে হুতিদের রহস্যময় নীরবতা

যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকবেন ট্রাম্প, প্রতিরক্ষা ব্যয় বেড়ে ১৮৫ বিলিয়ন ডলার

ইরানে মাটির নিচে নতুন পারমাণবিক কেন্দ্রের সন্ধান দিল আইএইএ