হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইরাকে বিধ্বস্ত মার্কিন জ্বালানিবাহী কেসি-১৩৫–এর বৈশিষ্ট্য কী, যুদ্ধক্ষেত্রে এর গুরুত্ব কতটা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মাঝ আকাশে বিমানে জ্বালানি সরবরাহকারী একটি সামরিক বিধ্বস্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম ইরাকে একটি মার্কিন কেসি-১৩৫ এরিয়াল রিফুয়েলিং (আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মোর্চা ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোষ্ঠীটি এক বিবৃতিতে বলেছে যে তারা ‘দেশের সার্বভৌমত্ব এবং আকাশসীমা রক্ষায়’ কেসি-১৩৫ বিমানটি গুলি করে ভূপাতিত করেছে। মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডও এই বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার বিমান মার্কিন বিমানবাহিনীর প্রধান এরিয়াল রিফুয়েলিং বিমান। এটি ১৯৫০-এর দশকে প্রথমবার তৈরি করে বোয়িং। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। চারটি টার্বোফ্যান সিএফএম ৫৬ সিরিজের ইঞ্জিন এই বিমানটিকে পরিচালনা করেছ। বিমানটি সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২২ হাজার ৫০০ পাউন্ড বা প্রায় দেড় শ টন ওজন নিয়ে টেকঅফ করতে সক্ষম।

এই স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কারের দৈর্ঘ্য ১৩৬ ফুট ৩ ইঞ্চি, উইংস্প্যান বা দুই পাশের ডানার দৈর্ঘ্য ১৩০ ফুট ১০ ইঞ্চি এবং উচ্চতা ৪১ ফুট ৮ ইঞ্চি। ফ্লাইং বুমের মাধ্যমে বিমান থেকে বিমানে জ্বালানি স্থানান্তর করে, যা ফাইটার, বোমার এবং অন্যান্য বিমানের রেঞ্জ বাড়ায়।

বিমানটি সর্বোচ্চ গতি ৫০৪ নট (প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৯৩৩ কিলোমিটার) এবং রেঞ্জ ১ হাজার ৩০৩ নটিক্যাল মাইল বা ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটারের বেশি (দেড় লাখ পাউন্ড জ্বালানি নিয়ে)। এটি ২ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত জ্বালানি বহন করতে পারে এবং সার্ভিস সিলিং ৫০ হাজার ফুট অর্থাৎ, ভূপৃষ্ঠ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় উঠতে পারে। জ্বালানির বাইরেও এই বিমাটির কার্গো ক্ষমতা ৮৩ হাজার পাউন্ড বা ৩৭ যাত্রী মালামালসহ বহন করা যায়।

এ ধরনের ট্যাংকার বিমান যুদ্ধের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে যখন যুদ্ধবিমান বা বোমারু বিমানকে দীর্ঘ পথ উড়তে হয়, তখন তাদের আকাশেই জ্বালানি সরবরাহ করে এগুলো, যাতে তারা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রস্তুত থাকে।

এটি এক বিশাল লজিস্টিক কার্যক্রম। একই সময়ে আকাশে অনেকগুলো জেট থাকে, এবং প্রত্যেকটিরই জ্বালানি প্রয়োজন হয়। জ্বালানি ভরার প্রক্রিয়ায় গ্রহণকারী বিমানকে ট্যাংকারের খুব কাছাকাছি উড়তে হয়। এরপর ট্যাংকার থেকে একটি প্রোব (জ্বালানি সরবরাহের বাহু) বাড়িয়ে নিচের দিকে নামানো হয়।

যে বিমানটি জ্বালানি নেবে, তার পাইলট সেই প্রোবের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান। ট্যাংকারের নিচে থাকা আলোর সংকেত ব্যবস্থার সাহায্যে তিনি নিজের অবস্থান ঠিক করেন, যাতে প্রোবটি সরাসরি জেটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

সংযোগ স্থাপনের পর জ্বালানি স্থানান্তর শুরু হয়, যা সম্পন্ন হতে কয়েক মিনিট সময় লাগতে পারে। এই পুরো সময় জ্বালানি নেওয়া বিমানটি বিশাল ট্যাংকারের একেবারে কয়েক ফুট দূরত্বে থাকে। এমনকি অনেক সময় এসব অভিযান রাতের অন্ধকারেও পরিচালিত হয়।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে পাইলটের প্রচুর দক্ষতা প্রয়োজন হয়, যাতে তিনি প্রোবের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে পারেন। কখনো কখনো শাটলককের মতো আকৃতির ‘ড্রোগ’ বা এক ধরনের নোঙর ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে আশপাশে আরও অনেক বিমান থাকতে পারে। শত্রুর নজর এড়াতে জ্বালানি ভরার মিশনের সময় অনেক ক্ষেত্রে বিমানের সব আলো সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়।

তথ্যসূত্র: বিবিসি ও মার্কিন বিমানবাহিনীর ওয়েবসাইট

মালদ্বীপে প্রবাসী শ্রমিকদের আবাসনে ভয়াবহ আগুন, ৫ জনের মৃত্যু

হিজবুল্লাহর লাগাম টানতে চায় লেবাননের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সেনাবাহিনীর না

ব্যাপক হামলার পরও স্থিতিশীল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা: ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন

পেজেশকিয়ানকে প্রথম ফোন, জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার অনুরোধ মোদির

খামেনিপুত্র মোজতবা কি বেঁচে আছেন, ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন রহস্য

মার্কিন রণতরি ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’ ক্ষতিগ্রস্ত—দাবি ইরানের, যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকার

রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জ্বালানিবাহী বিমান ভূপাতিত

ইরান আর আগের মতো নেই: নেতানিয়াহু

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ: তেল সংকটে হিসাবি এশিয়া