হোম > বিশ্ব

পেরুতে পর্যটকবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, সব আরোহীর মৃত্যু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

নিহত যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন জার্মানির দুইজন, স্পেনের দুইজন এবং ইতালির সাতজন পর্যটক। ছবি: ইপিএ

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে একটি পর্যটকবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ১১ যাত্রী ও দুই ক্রুর মৃত্যু হয়েছে। পর্যটকেরা উড়োজাহাজটিতে করে বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ‘নাজকা লাইনস’ দেখতে যাচ্ছিলেন। নাজকা লাইনস হলো মাটিতে খোদাই করা বিশালাকৃতির কিছু জিওগ্লিফ (পাথুরে নকশা বা ভূমিরূপের শিল্পকর্ম)।

স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১টার দিকে পুয়েবলো ভিয়েখো এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এর আগে বিমানটি পেরুর পিসকো বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছিল।

বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেসনা ক্যারাভান সি-২০৮ মডেলের উড়োজাহাজটি নাজকা লাইনস-এর ওপর দিয়ে উড়ছিল। এ সময় সেটি বিধ্বস্ত হয়। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় পুলিশের মেজর হোর্হে আন্দ্রাদে উড়োজাহাজে থাকা ১১ জন যাত্রী এবং ২ জন ক্রু নিহতের কথা নিশ্চিত করেছেন।

পেরুর রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন জার্মানির দুইজন, স্পেনের দুইজন এবং ইতালির সাতজন পর্যটক।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই বিধ্বস্ত বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। ফলে কাউকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নাসকা প্রাদেশিক পৌর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ দুর্ঘটনায় ‘গভীর শোক’ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি ‘আন্তরিক সমবেদনা’ জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শনিবারের এই দুর্ঘটনাটি পেরুর দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনকারী প্রতিষ্ঠান অ্যারোডিয়ানার একটি উড়োজাহাজ। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা তাদের ফ্লাইটসূচি পর্যালোচনা করবে।

গত কয়েক দশকে নাজকা লাইনস-এর আকাশে এটিই প্রথম উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা নয়। ২০২২ সালে একই এলাকায় আরেকটি ছোট পর্যটকবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছিল। ওই দুর্ঘটনায় সাত আরোহীর সবাই নিহত হন।

এর আগে ২০১০ সালেও নাজকা লাইনস-এর আকাশে একটি পর্যটকবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন নিহত হয়েছিলেন।

পেরু বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। দেশটির ঐতিহাসিক সব নিদর্শন দেখতে নিয়মিতই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ভ্রমণে যান। তাঁদের অনেকেই ইনকা সভ্যতার নিদর্শন মাচু পিচু কিংবা কুসকোর বিশাল আদিবাসী পাথরের দেয়াল দেখতে সেখানে যান।

পেরুর বৈদেশিক বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ৩ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে ২০২৫ সালে ৪১ লাখের বেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন।

নাজকা লাইনসগুলো দেশটির দক্ষিণ উপকূলীয় মরুভূমি অঞ্চলে আন্দিজ পর্বতমালার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত।

খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ থেকে ৫০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে এসব নকশা তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। বৈশ্বিক সংস্কৃতিতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেসকো) এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ইউনেসকোর ভাষ্য, সংখ্যার দিক থেকে, প্রকৃতি, আকার ও ধারাবাহিকতার বিচারে নাজকা লাইনস ‘প্রত্নতত্ত্বের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি’।

সংস্থাটি আরও বলেছে, এসব জিওগ্লিফে জীবজন্তু, শৈল্পিকভাবে উপস্থাপিত উদ্ভিদ, কাল্পনিক প্রাণী এবং কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ জ্যামিতিক নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এগুলো জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বা ধর্মীয় আচার–অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।

বিশাল আকৃতির কারণে নাজকা লাইনস সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায় আকাশ থেকে। সেখান থেকে বানর, হামিংবার্ড, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর আকৃতির বিশাল নকশাগুলো স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে দেখা যায়।

গাজায় আরও ৮ জনকে হত্যা করল ইসরায়েল

মোজতবা খামেনিকে হন্যে হয়ে খুঁজছে ইসরায়েল, মাঠে মোসাদ-সিআইএ

বাবার গলায় ফাঁস দেওয়ার দৃশ্য ভিডিও করল শিশুপুত্র, সাহায্যের জন্য মায়ের চিৎকার

আসিয়ানের সদস্য হতে পারছে না বাংলাদেশ, যে কারণ দেখাল জোট

বৈশ্বিক কল্যাণের স্বার্থে ইরানে হামলা বন্ধ, চুক্তির খসড়ায় পৌঁছেছি: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী–অংশীদার দেশগুলো যুদ্ধের আগুনে পুড়বে: ইরানি শীর্ষ জেনারেল

বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের নাগরিকদের ভিসা বন্ড স্থায়ী করল যুক্তরাষ্ট্র, দিতে হবে ২০ হাজার ডলার

মার্কিন ঘাঁটিতে ১০২ মিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল করল ফিফা

স্পেনে ঢুকে পড়া অভিবাসীরা আবারও মরক্কো ফিরে যাচ্ছে