মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আজ সোমবার প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হচ্ছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, একজন সাধারণ কয়েদির মতো নিউইয়র্কবাসীকে নিয়ে গঠিত জুরিবোর্ডের সামনেই তাঁর বিচার হবে।
একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের বিচার সাধারণ নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত জুরির মাধ্যমে হওয়াটা একটি বিরল ঘটনা হতে যাচ্ছে।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরোর আইনজীবীরা তাঁর গ্রেপ্তারকে ‘বেআইনি’ দাবি করে এক দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, মাদুরোর আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেবেন—একটি বিদেশি রাষ্ট্রের সার্বভৌম প্রধান হিসেবে মাদুরো যেকোনো ধরনের বিচারিক প্রসিকিউশন থেকে দায়মুক্তি (Immunity) পাওয়ার অধিকারী। তাই তাঁকে গ্রেপ্তার বা বিচার করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদুরোর জন্য এই পথ বেশ কণ্টকাকীর্ণ হবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকার করে না। বিশেষত, ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকে। অন্যদিকে ১৯৯০ সালে পানামার শাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগাকেও একইভাবে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করে আমেরিকায় আনা হয়েছিল। নরিয়েগাও ‘রাষ্ট্রপ্রধান’ হিসেবে দায়মুক্তির দাবি করেছিলেন; কিন্তু মার্কিন আদালত তা প্রত্যাখ্যান করেছিল।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে নিকোলা মাদুরোকে হাজির করার কথা রয়েছে। স্থানীয় সময় আজ দুপুরের দিকে বিচারক অ্যালভিন কে হেলারস্টাইনের আদালতে তাঁকে নেওয়া হতে পারে।
মাদুরোর পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী সিলিমা ফ্লোরেস, তাঁদের ছেরে এবং আরও তিনজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, তাঁরা মাদক কার্টেলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে হাজার হাজার টন কোকেন যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের সুবিধা করে দিয়েছেন। এই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে মাদুরো ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।