পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে ধর্মীয় মেরুকরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তৃণমূল থেকে সম্প্রতি বহিষ্কার হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের একটি বিতর্কিত ‘স্টিং অপারেশন’ ভিডিওর পরিপ্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিজেপির অবস্থান অত্যন্ত কড়া ভাষায় স্পষ্ট করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যারা বাংলায় ধর্মীয় বিভাজন বা বাবরি মসজিদের আদলে স্থাপত্য গড়ার পরিকল্পনা করে, তাদের সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই আপস করবে না বিজেপি।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে (যার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি), যেখানে হুমায়ুন কবীরকে দাবি করতে শোনা যায়, তিনি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, তৃণমূলকে হারানোর বিনিময়ে বিজেপির সঙ্গে তাঁর ১ হাজার কোটি টাকার একটি গোপন চুক্তি হয়েছে। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে বিজেপি একে ‘সস্তা ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
‘স্টিং অপারেশন’ বলতে বোঝায়, পক্ষের লোক সেজে কাউকে প্রলুব্ধ করা এবং গোপন তথ্য প্রকাশ করতে রাজি করানো বা নির্দিষ্ট কাজ করতে উৎসাহিত করা।
হুমায়ুন কবীরের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, ‘আপনারা হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সক্ষমতা সম্পর্কে অবগত নন; তিনি চাইলে এই ধরনের ২ হাজার ভুয়া ভিডিও তৈরি করতে পারেন।’
বিজেপির সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের দূরত্বের কথা তুলে ধরে তিনি একটি ভৌগোলিক উপমা ব্যবহার করেন। শাহ বলেন, ‘হুমায়ুন কবীর আর বিজেপি হলো উত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরুর মতো, যাদের কোনো দিন মিলন সম্ভব নয়। আমরা বরং আরও ২০ বছর বিরোধী আসনে বসতে রাজি, তবু বাংলায় যারা বাবরি মসজিদ নির্মাণের কথা ভাবে, তাদের পাশে আমরা বসব না।’
বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা হুমায়ুন কবীর দাবি করেছেন, এই ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল মুসলিম ভোট হারানোর ভয়ে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই ষড়যন্ত্র করেছে। এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের আবেগের সঙ্গেও একধরনের তামাশা।’ তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তৃণমূল প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে তিনি মানহানির মামলা করবেন।
এই ভিডিওর প্রভাবে হুমায়ুন কবীর এখন রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা। আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল মিম (এআইএমআইএম), যারা হুমায়ুনের দল এজেইউপিকে সমর্থন দিয়েছিল, তারা আজ সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে বঙ্গ বিজেপির সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষ উপহাস করে বলেছেন, ‘হুমায়ুন কবীরের মতো নেতার যোগ্যতা ১০০ কোটিরও নয়, ১ হাজার কোটি তো অনেক দূরের কথা।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহর এই কড়া বার্তা মূলত বিজেপির কট্টর হিন্দুত্ববাদী ভোটারদের আশ্বস্ত করার একটি কৌশল, যাতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে। ভোটের আগে এই ‘স্টিং অপারেশন’ বিতর্ক বাংলার রাজনীতির ময়দানকে আরও তপ্ত করে তুলেছে।