রাজস্থানের আজমিরে বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ও ফিলিস্তিনের পক্ষে স্টিকার লাগানোর ঘটনায় এক ব্রিটিশ যুগলকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে গুরুতর হিসেবে দেখে গোয়েন্দা বিভাগ জেলা পুলিশকে সতর্ক করে। এরপর দুই ব্রিটিশ নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, লুইস গ্যাব্রিয়েল ডি এবং তাঁর বান্ধবী অনুশি এমা ক্রিস্টিন পর্যটক ভিসায় ভারতে এসেছিলেন। তাঁরা পুষ্করে অবস্থান করছিলেন। ২১ জানুয়ারি গোয়েন্দা বিভাগ তথ্য পায়, এই যুগল স্টিকার লাগানোর ঘটনায় জড়িত। এরপর গোয়েন্দা বিভাগ সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে।
বিষয়টি গুরুতর বলে মনে করায় গোয়েন্দা বিভাগ জেলা পুলিশকে যুক্ত করে। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট (সিআইডি) রাজেশ মীনার নেতৃত্বে একটি দল ওই দুই বিদেশিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাঁরা পর্যটক ভিসায় ভারতে এসে ‘রাজনৈতিক কার্যকলাপে’ জড়িয়েছিলেন। এটি ভিসার শর্তের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
পরে জেলা পুলিশের সহায়তায় স্টিকারগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। অভিবাসন ও বিদেশি আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দুই বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয় এবং তাঁদের ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিশ’ দেওয়া হয়। এই নোটিশে তাঁদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই ধরনের ঘটনায় বিদেশি নাগরিকদের আটক করা হতে পারে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে নির্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে তাঁদের ব্ল্যাক লিস্ট করা হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে তাঁদের ভারতে প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পর্যটক ভিসায় ভারতে অবস্থানকালে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, প্রতিবাদমূলক বা আদর্শগত কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চলতি ফেব্রুয়ারিতেই ইসরায়েল সফরে যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রেউভেন আজার। তিনি এই তথ্য এনডিটিভিকে জানান। এই সফরটি হলে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে দ্রুত সম্প্রসারিত কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হবে।
সফরটি এমন এক সময়ে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যখন পশ্চিম এশিয়ায় তীব্র ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন চলছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সমন্বয় দেখা যাচ্ছে।