পাকিস্তানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনার পূর্ণ সফলতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও সংহতি জানিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং বিরোধী জোট তেহরিক-ই-তাহাফফুজ-ই-আইন-ই-পাকিস্তান (টিটিএপি)। দল দুটির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, এই আলোচনার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ ও পাকিস্তানের কৌশলগত স্বার্থ সংরক্ষিত হবে।
পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় মিডিয়া বিভাগ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের ঐকান্তিক প্রত্যাশা এই যে চলমান আলোচনা থেকে গঠনমূলক ও পারস্পরিকভাবে ফলপ্রসূ ফলাফল বেরিয়ে আসবে। এটি কেবল মুসলিম উম্মাহর সামষ্টিক স্বার্থই রক্ষা করবে না, বরং পাকিস্তানের কৌশলগত অবস্থানকেও শক্তিশালী করবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই উদ্যোগ পুরো অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনবে। মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করে তারা বলে, ‘আল্লাহ এই প্রচেষ্টাকে জ্ঞান ও হেদায়েত দিয়ে বরকতময় করুন, যাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কল্যাণে ফলপ্রসূ সমাধান আসে।’
এদিকে বিরোধী জোট টিটিএপি এক বিবৃতিতে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছে। তারা বিশ্বাস করে, এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক অগ্রগতি এবং অর্থবহ সংলাপের ভিত্তি তৈরি করবে, যা পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে।
বিবৃতিতে জোটটি আরও উল্লেখ করে, ‘আমরা আশা করি, এই প্রক্রিয়া কেবল মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তর স্বার্থই রক্ষা করবে না, বরং পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থকেও সমুন্নত রাখবে। এ ধরনের অগ্রগতি অঞ্চলে টেকসই শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন পথ খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে।’
প্রসঙ্গত, সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসেছে চিরবৈরী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তান সরকারের সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিশ্চিত করেছে, ইসলামাবাদে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘ত্রিপক্ষীয় মুখোমুখি বৈঠক’ চলছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী আকবর আহমাদিয়ান এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেমমতি। এ ছাড়া নিরাপত্তা, রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক এবং আইনি বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা এই দলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে আছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।