ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ভিসা নীতি এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর নানাবিধ বিধিনিষেধ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বেড়েছে। গত শুক্রবার হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে। বাণিজ্য ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও এমন চিত্র ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
হার্ভার্ডের বার্ষিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শরতে চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৯০ জন। ২০২৫ সালের শরতে সেই সংখ্যা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৫২ জনে। কেবল মূল ভূখণ্ড নয়, হংকং থেকে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ৬৮ থেকে বেড়ে ৭৩ হয়েছে। তবে ম্যাকাও থেকে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই বিদেশি শিক্ষার্থীদের এনরোলমেন্ট এবং ফান্ডিংয়ের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করে। বিশেষ করে চীনা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভিসা দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ একাধিক পদক্ষেপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম জনসমক্ষেই হার্ভার্ডের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর চীনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে এই কড়াকড়ির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য বিরোধী অবস্থান ও কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও হার্ভার্ডে চীনা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এর দুটি প্রধান কারণ থাকতে পারে: ১. প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন: হার্ভার্ডের মতো বৈশ্বিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মেধাবী শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে তাদের নিজস্ব নীতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ২. কূটনৈতিক সমীকরণ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতে চীনের প্রভাব হ্রাসে ট্রাম্পের ‘ভিসা ক্র্যাকডাউন’ নীতি আসলে কতটা কার্যকর হচ্ছে, এই পরিসংখ্যান সেই প্রশ্নটিকেই উসকে দিয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদেশি বিনিয়োগ ও শিক্ষার্থীর ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের এই সময়ে হার্ভার্ডের এই তথ্য আগামী দিনে হোয়াইট হাউস এবং শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।