হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

মার্কিন–ইসরায়েলি হামলায় আইআরজিসির গোয়েন্দাপ্রধান নিহত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেমি। ছবি: তাসনিম নিউজ

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ আজ সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আইআরজিসি ঘনিষ্ঠ ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আজ সোমবার ৬ এপ্রিল মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেমি চলমান আগ্রাসী যুদ্ধে আমেরিকান-জায়োনিস্ট শত্রুর এক সন্ত্রাসী হামলায় শহীদ হয়েছেন।’ এতে আরও বলা হয়, ‘প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে বিপ্লব, রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং ইসলামী স্বদেশের প্রতি আন্তরিক ও সাহসী অভিভাবকত্বের মাধ্যমে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে মেজর জেনারেল খাদেমি গুরুত্বপূর্ণ, স্থায়ী এবং শিক্ষণীয় অবদান রেখে গেছেন।’

আইআরজিসি উল্লেখ করেছে, মাজিদ খাদেমির এই প্রচেষ্টা দেশের গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের জন্য বহু বছর ধরে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে, কৌশলগত পর্যায়ে বিদেশি শত্রুদের মোকাবিলা এবং তাদের অনুপ্রবেশ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত কূটচাল ও শয়তানি ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি রেজিম ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিপ্লবের তৎকালীন নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি, কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার এবং বেসামরিক ব্যক্তিদের হত্যার পর ইরানের বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ পরিসরের উসকানিবিহীন সামরিক অভিযান শুরু করে। এই হামলায় ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হতাহত এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা অভিযান চালিয়ে ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চল এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোতে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে। সর্বশেষ গতকাল রোববার ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। গ এই হামলায় উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফায় একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত দুজন নিহত হয়েছে এবং এখনো দুজন নিখোঁজ রয়েছে।

অন্যদিকে, তেল আবিবসহ মধ্যাঞ্চলের অন্তত ১৫টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ার খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।

জর্ডানের আম্মান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, হাইফা শহরে ইরানের ছোড়া একটি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে আঘাত হানে। এতে ভবনটির অর্ধেক অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। উদ্ধারকারী দলগুলো সারা রাত ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। এখনো ওই একই পরিবারের আরও দুই সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনটির বাকি অংশ অত্যন্ত নড়বড়ে অবস্থায় থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। হাইফা শহরটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এটি প্রায়ই ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। উদ্ধারকাজ চলাকালীনও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, যা পরে তুলে নেওয়া হয়।

গোয়েন্দাপ্রধানের পর এবার কুদস ফোর্সের ইউনিট প্রধানকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরি করতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র—দাবি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এবং অযৌক্তিক: ইরান

ইরান যুদ্ধ: ‘অহমিকা’ ও ‘অবিশ্বাস’-এর মাঝেও কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান

‘শান্তি মিশন’ নিয়ে চীন যাচ্ছেন তাইওয়ানের বিরোধীদলীয় নেত্রী

রাতভর ফোনালাপ, পারস্য উপসাগরে শান্তির বার্তা

চীনকে নিয়ে হরমুজ নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান! ভারতের জন্য বিপদ

হরমুজ খুলবে ইরান, টোল থেকে পুষিয়ে নেবে যুদ্ধের ক্ষতি

রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান: ইরানে সিআইএ ও স্পেশাল ফোর্সের ‘মিশন ইমপসিবল’

ইসরায়েলে আঘাতে সক্ষম ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট ইরানের, হিজবুল্লাহর ১০ হাজার রকেট