মোবাইল ফোনে কল ও মেসেজে ব্লক করে দেওয়া নিয়ে প্রেমিককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ভারতের ছত্তিশগড়ের বিলাসপুরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত কামতা প্রসাদ সূর্যবংশী (২৫) একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং স্থানীয় একটি হোটেলে কাজ করতেন। ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তাঁর পরিচয় হয় রোশনি সূর্যবংশীর (২২) সঙ্গে। এরপর দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই-তিন দিন ধরে তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। কামতা হঠাৎ করে রোশনির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং তাঁর ফোন নম্বর ও মেসেজ ব্লক করে দেন। কামতা অন্য কোনো নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন এমন সন্দেহ থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে রোশনি একটি ছুরি নিয়ে কামতার বাড়িতে হাজির হন।
পুলিশ আরও জানায়, কামতা দরজা খোলার পর রোশনি তাঁর মোবাইল ফোন দেখতে চান। কামতা ফোন দিতে অস্বীকার করলে দুজনের মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে রোশনি সরাসরি কামতার বুকে ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
চিৎকার শুনে কামতার রুমমেট বাইরে এসে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই কামতার মৃত্যু হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা সুম্মত সাহু জানান, অভিযুক্ত তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ওই নারী ছুরি নিয়ে ভুক্তভোগীর ঘরে ঢুকে তাঁর ফোন দাবি করেন। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত কামতা বিজেপি নেতা তথা জেলা পঞ্চায়েত সভাপতি রাজেশ সূর্যবংশীর ভাতিজা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তরুণী দাবি করেন, তিনি শুধু ভয় দেখানোর জন্য ছুরিটি নিয়েছিলেন। তবে তাঁর উদ্দেশ্য, দুজনের সম্পর্কের ধরন এবং হত্যাকাণ্ডে পৌঁছানোর পুরো ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।