হোম > বিশ্ব

ইরানে ফের মহাযুদ্ধের দামামা, হামলার নীলনকশা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ কমান্ডারের বৈঠক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইরান যুদ্ধ ফের শুরুর করার বিষয়ে সব অপশন নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। ছবি: সিএনএন

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামরিক অভিযানের বিভিন্ন বিকল্প পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্রিফ করেছেন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। বৈঠক সম্পর্কে সরাসরি অবগত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সামরিক অভিযান নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় হোয়াইট হাউসে এ ধরনের সরাসরি বৈঠককে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, বৈঠকে কুপারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরাও এতে অংশ নেন। আলোচনায় ইরান পরিস্থিতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অবরোধসহ অন্যান্য বিষয়ও স্থান পায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এর আগে, গত বুধবার হোয়াইট হাউসে সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ওই বৈঠকেও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। এর আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ জন্য আরব উপসাগরীয় দেশগুলোকে প্রস্তুত থাকার বার্তাও দিয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। একই সময়ে ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী কট্টরপন্থি নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে শান্তি আলোচনাকারীদের পুনরায় আলোচনায় ফেরানোর চেষ্টা করছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

গত সপ্তাহে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো আবারও ছোটখাটো একটি “এপিক ফিউরি” অভিযান চালাতে পারি। অথবা তারা (ইরান) সমঝোতায় আসবে।’ চলতি বছরের বসন্তে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণ অভিযানের নাম ছিল ‘এপিক ফিউরি’।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল কুপার সাধারণত প্রেসিডেন্টকে সরাসরি সামরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফ করেন না। ফলে তাঁর এবারের হোয়াইট হাউস সফরকে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রসর হওয়ার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত জুলাইয়ে ডেলাওয়্যারে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন কুপার। সে সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ ও জেনারেল কেইন।

এ বিষয়ে পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র এবং কুপারের নেতৃত্বাধীন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের একজন মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু করার সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতার আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসন শিগগিরই তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে পারে।

কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি বলেছেন, সামরিক অভিযানের কিছু গোপন পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি আগেই ব্রিফিং পেয়েছেন। এসব পরিকল্পনাকে ‘উন্মাদনাপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে বুধবার মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এর ফলে ভয়াবহ সংঘাতের বিস্তার ঘটবে এবং আইনের শাসনের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার সম্ভবত ধ্বংস হয়ে যাবে।’

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বিস্তৃত পরিসরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমেও তেহরান এ অবস্থান জানিয়েছে।

ইরান ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে মজুত করে রাখা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টাও জোরদার করেছে দেশটি। এ পরিস্থিতিতে নতুন করে বোমাবর্ষণ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি হিসেবে গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল মোতায়েন বাড়িয়েছে পেন্টাগন। অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, গোলাবারুদ ও প্রয়োজনীয় সরবরাহ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি হামলার ঝুঁকিতে থাকা কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য হামলায় তাঁদের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কমানো যায়। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে।

এ ছাড়া ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে দেশটিতে অতিরিক্ত একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ইন্টারসেপ্টরের মজুত ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত নতুন সরবরাহ পাঠানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধে প্রস্তুত রাশিয়া, তবে আমরা যুদ্ধ চাই না: পুতিন

মনুস্মৃতি–বেদের উদ্ধৃতি দিয়ে গরু জবাইয়ের মামলায় তিন মুসলিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড গুজরাট আদালতের

ইসরায়েলের নির্বাচনের ফল প্রকাশ: আরব দলগুলোর রেকর্ড ১৯ আসন, নেতানিয়াহু ও বিরোধীদের কতটা

ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ভেঙে বন্যার শঙ্কা পশ্চিমবঙ্গ-আসামে, ঝুঁকিতে বাংলাদেশেও

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অস্তিত্ব ঝুঁকির মুখে

কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে খুঁজছে লন্ডনের পুলিশ

রোদঝলমল রাস্তায় নেমে এলেন বাসিন্দারা—ইউক্রেনের খেরসনে বিরল স্বস্তি

কাছাকাছি জলসীমায় চীনের ৫০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ, তাইওয়ানের উদ্বেগ

স্পেনে ২ ট্রেনের সংঘর্ষের আগে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সঙ্গে চালকদের কথোপকথন ফাঁস

ট্রাম্পের পোস্ট ৫০ মিলিসেকেন্ড আগে দেখতে লাখ ডলারে চুক্তি ব্লুমবার্গসহ ৩ প্রতিষ্ঠানের